নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল সংস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।


সেনাপ্রধান বলেন, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কোনো ধরণের ঘাটতি নেই এবং সেখানে নির্বাচন সফল না হওয়ার কোনো সুযোগ বা অবকাশ নেই।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সেনাপ্রধান সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের সময় কোথাও কোথাও অর্থ লেনদেন কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিশদ আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি নির্বাচনি আসনেই কিছু চিহ্নিত অপরাধী বা দুষ্কৃতকারী থাকতে পারে, তবে তারা যেন কোনোভাবেই ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দিতে না পারে সে ব্যাপারে সশস্ত্র বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। ভোটের দিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আটক কিংবা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিন গাজীপুর সফরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।
তিন বাহিনীর প্রধানেরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে জেলাটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় তারা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।
সভায় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
তিন বাহিনীর প্রধানেরা দায়িত্বরত সকল সদস্যকে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম তদারকি করে তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
উক্ত সভায় অসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available