আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রায় দুই বছর পর গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় খুলে দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির একাধিক গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

১ ফেব্রুয়ারি রোববার সীমিত আকারে ক্রসিংটি চালু হওয়ার পরই গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ শুরু হয়। ইয়েদিওথ আহরোনোথের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জাম বহনকারী সহায়তা ট্রাকগুলো ক্রসিং দিয়ে গাজায় ঢুকছে।


আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর মতে, কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের ফলে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখনো চরম সংকটাপন্ন। বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সহায়তা গাজার বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ফেরার প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাফাহ ক্রসিংয়ে কড়া নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। তবে সীমান্ত দিয়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশকে সংকট নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, উভয় দিক থেকে সাধারণ মানুষের সীমিত চলাচল ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন গাজা উপত্যকা ছাড়তে পারবেন এবং প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।
তবে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাসকারী গাজা উপত্যকার জন্য এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইসরাইলের গত দুই বছরের সামরিক অভিযানের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি এখনও ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, তীব্র বোমাবর্ষণ ও ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেই গাজা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বর্তমানে কিছু এলাকায় সহিংসতা কমে আসায় এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আশায় তারা নিজ বাড়িতে—অথবা বাড়ির অবশিষ্টাংশে—ফিরে যেতে চাইছেন।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর একাধিক অজ্ঞাত নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে আল জাজিরা জানায়, যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এই সীমিত পরিসরে ক্রসিং চালু করেছে। এ প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মিসরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।
গাজার বাসিন্দাদের জন্য, বিশেষ করে রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে, মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিংকে বহির্বিশ্বে প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরে সামরিক অভিযান চালানোর পর ২০২৪ সালের মে মাসে ক্রসিংটির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরাইল। এরপর এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলে গাজা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং মানবিক সংকট তীব্রতর হয়।
দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে রাফাহ ক্রসিং খুলে দিতে সম্মত হয় ইসরাইল। গত ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার গাজায় বেসামরিক নীতির সমন্বয়কারী ইসরাইলি সরকারি সংস্থা সিওজিএটি ক্রসিংটি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়।
সিওজিএটি জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় যারা গাজা ছেড়ে মিসরে গিয়েছিলেন, শুধুমাত্র তারাই নির্দিষ্ট শর্তে গাজায় ফেরার সুযোগ পাবেন। তবে প্রত্যাবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইসরাইলের পূর্বানুমোদিত নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available