• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৪ঠা মাঘ ১৪৩২ দুপুর ০২:১১:৪২ (17-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
গাজার ‘শান্তি বোর্ডের’ পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

গাজার ‘শান্তি বোর্ডের’ পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা ব্যবস্থাপনা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি বোর্ডের পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা প্রকাশ করেছেন। ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার তিনি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে এই উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন এবং গাজায় একটি নতুন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্বে একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেন।গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে সহায়তার জন্য এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যেখানে মার্কিন নাগরিকদের আধিপত্য স্পষ্ট। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজাকে ঘিরে একটি বিতর্কিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনাও তুলে ধরছেন ট্রাম্প।ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত গাজা শাসন সংক্রান্ত কমিটির কায়রোতে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকের পরই এই ঘোষণা আসে। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রভাবশালী উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।এর আগে ট্রাম্প নিজেকে শান্তি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। শুক্রবার প্রকাশিত তালিকায় টনি ব্লেয়ারের পাশাপাশি রয়েছেন জ্যারেড কুশনার, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণে ভূমিকার কারণে টনি ব্লেয়ার মধ্যপ্রাচ্যে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্প নিজেও গত বছর বলেছিলেন, ব্লেয়ার যেন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হন, তা তিনি নিশ্চিত করতে চান। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ব্লেয়ার জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ‘মিডল ইস্ট কোয়ার্টেট’-এর প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কাজ করেছেন।হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তি বোর্ডটি গাজার শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৃহৎ অর্থায়ন ও মূলধন সংগ্রহের মতো বিষয়গুলো দেখভাল করবে। আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প এর আগে বিধ্বস্ত গাজাকে একটি সাগরতীরবর্তী রিসোর্ট অঞ্চলে পরিণত করার চিন্তার কথা বললেও ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রস্তাব থেকে পরে সরে আসেন।বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, মার্কিন ধনকুবের ও অর্থদাতা মার্ক রোয়ান এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে কর্মরত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা পুনরায় গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন ঘোষণা করেছে যে গাজা পরিকল্পনা দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে, যার লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পর হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, ঠিক তখনই এই হামলার খবর আসে।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।এদিন ট্রাম্প মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’-এর প্রধান হিসেবে মনোনীত করেন। এই বাহিনীর দায়িত্ব হবে গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামাসের পরিবর্তে একটি নতুন পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের স্পেশাল অপারেশন ইউনিট থেকে আসা জেফার্স এর আগে ২০২৪ সালের শেষ দিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন।যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীতে সেনা পাঠাতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ইন্দোনেশিয়া প্রথম দিকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে কূটনীতিকদের মতে, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে সম্মত না হলে অন্য দেশগুলোর সেনা পাঠানো কঠিন হবে।গাজার বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথকে এর আগে গভর্নিং কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। কায়রোর বৈঠকে বুলগেরীয় কূটনীতিক নিকোলে ম্লাদেনভও অংশ নেন। তাকে নতুন গভর্নিং বডি ও ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষাকারী উচ্চ প্রতিনিধি করা হয়েছে।কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে জানান, সদস্যরা শনিবার আবার বৈঠকে বসবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে গাজায় যাওয়ার আশা করছি। আমাদের কাজ সেখানেই এবং আমাদের সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে।’দ্বিতীয় ধাপে ট্রাম্প একটি নির্বাহী বোর্ডও গঠন করেছেন, যা মূলত পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করবে। এতে ব্লেয়ার, উইটকফ ও ম্লাদেনভ ছাড়াও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান রয়েছেন। তবে গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের কঠোর অবস্থানের কারণে ইসরায়েল নিরাপত্তা কাঠামোতে তুরস্কের ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করেছে।এ ছাড়া এই বোর্ডে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর ও কাতার এবং ২০২০ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও থাকবেন। গাজার জন্য জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী সিগ্রিড কাগকেও বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘকে প্রান্তিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: এএফপি