• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২০শে মাঘ ১৪৩২ রাত ০১:৪৫:০৮ (03-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:

বিপ্লবী নারী সংগঠক মধুপুরের মালতি নকরেক

১৬ মার্চ ২০২৪ বিকাল ০৩:০২:০০

বিপ্লবী নারী সংগঠক মধুপুরের মালতি নকরেক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্রহ্মপূত্র নদের এপারকে আবিমা আর ওপারকে আফাল বলে আথ্যায়িত করেছে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মান্দিরা। এক সময় এ নদের দু'পাড়েই জুম চাষ করতো মান্দি গারো সম্প্রদায়ের লোকেরা। শেরপুর, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের চেয়ে নদের এপারের টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলে জুম ফসল বেশি হতো। যে কারণে মধুপুর অঞ্চলকে আবিমা বলা হতো আর ওপারকে আফাল বলতো। আবিমা হলো মান্দি বা গারো শব্দ। এর অর্থ মা মাটি বা মাটির মা। বৈচিত্র্যময় জীবন ধারার অধিকারী গারো সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদেরকে মান্দি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। মান্দি শব্দের অর্থ তাদের ভাষায় মানুষ। জুম চাষের বড় একটা অংশ হতো লাল মাটির মধুপুর গড় অঞ্চলে। এ এলাকার মাটি লাল ধূসর। উর্বরতা শক্তি অন্য সব এলাকার চেয়ে বেশি। ফসল ভালো জন্মে। মান্দিদের আদি জুমিয়ারা মাটির গুণাগুণ ও ফসলের উৎপাদন দেখে মধুপুর অঞ্চলকে আবিমা বলে অভিহিত করে গেছেন। সে থেকে এ এলাকার মান্দিরা মধুপুরকে আবিমা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছে।

Ad

আর এ আবিমা অঞ্চলের একজন মান্দি নারী যিনি শিক্ষা দীক্ষা তাদের সংস্কৃতি কৃষ্টি কালচার ভাষাসহ নানা বিষয়ে রয়েছে তার বিশেষ অবদান। যে সময় মেয়েরা বাইরে বের হতো না তখন তিনি পায়ে হেঁটে গিয়ে পড়াশোনা করেছেন। করেছেন শিক্ষকতা। গড়েছেন গারো নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগঠন। নানা ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব জাতির গোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সক্রিয় অংশ গ্রহণ। সামাজিক সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে রয়েছে তার ছোঁয়া। এ মহয়সী  মান্দি নারীটির নাম মার্থা মালতি নকরেক। তিনি মধুপুর লাল মাটির শালবন ঘেরা ভেদুরিয়া গ্রামে ১৯৫৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন।

Ad
Ad

১৫ মার্চ শুক্রবার ভেদুরিয়া গ্রামে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এ নারীর জীবনের শিক্ষা সংস্কৃতি, তাদের ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়। মালতি নকরেক ১৯৭২ সালে মেট্রিক ও ১৯৭৫ সালে আইএ পাশ করেন। নিজের বাবার সংসারের কাজের পাশাপাশি করেছেন পড়াশোনা। তার বাড়ি থেকে বিদ্যালয় ছিল অনেক দূর। প্রতিদিন পায়ে হেঁটে যেতেন পড়তে। বনের মাঝ দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে ভয় করতো। বণ্যপ্রাণীদের বিচরণ ছিল বেশি। তিনি ভয়কে জয় তার বাড়ি থেকে ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে জলছত্র জুনিয়র স্কুলে যেতেন। সে সময় পাড়ায় হাতে গোনা দু'চার জন সহপাঠী ছিল । ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে যেতে হতো। বর্ষাকালে চলাচল ছিল কঠিন। লাল মাটি বৃষ্টিতে ভিজে পিচ্ছিল হতো। শতকষ্ট বাঁধা বিপত্তি অতিক্রম করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। অস্টম শ্রেণি পাশের মুক্তিযুদ্ধের কারণে তিনি ময়মনসিংহ,  হলি ফ্যামেলি  ঘুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জের তোমেলিয়া স্কুল থেকে নবম শ্রেণি পাশ করেন। পরে ঢাকার লক্ষীবাজার খ্রিস্টান সেন্ট জেভিয়াস স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে মেট্রিক পাশ করেন। পরে ১৯৭৫ সালে ঢাকা হলিক্রস কলেজ থেকে আই এ পাশ করেন। ময়মসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে বিএ ভর্তি হয়ে নেত্রকোনার বিরিশিরি থেকে পিটিআই করেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে শরীর চর্চা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ট্রেনিং নিয়ে এসে জলছত্র জুনিয়র স্কুলে ২৪৫ টাকা বেতনে চাকরি নেন। বেতনে না পোষার কারণে সিসিডিভিতে চাকরিতে যোগদান করেন। সেখানে ৮ বছর চাকরি করেন। পরে ফাদার ইউজিন হোমরিকের ডাকে পীরগাছা মিশনারী প্রাইমারী স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে জীবনের শেষ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।

আলাপকালে তাদের আদি মান্দিদের নানা বিষয় তিনি জানান। বিয়ে শ্রাদ্ধ ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে  কথা হয়। তিনি নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য জাসিন্তা নকরেক, মিরণী হাগিদক। সুলেখাম্রংসহ কয়েক নারী নিয়ে গড়ে তোলেন আচিক মিচিক সোসাইটি নামের একটি নারী সংগঠন। তিনি এ সংগঠনের সভাপতি। বিভিন্ন অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনটি বন মামলা খেয়ে ছিলেন। যার দুটি শেষ হয়েছে। একটি এখনও চলামান। তাদের আদি সংস্কৃতি রেঁরেঁ, আজিয়া, সেরেনজিং এখন আর আগের মতো নেই। তাদের মান্দি ভাষার চর্চাটাও অনেকটা কমে যাচ্ছে। তাদের ভাষা টিকিয়ে রাখতে পুঁথি বই এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। আগামী প্রজন্মকে এ বিষয় আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান এ নারীর। তাদের রংচুলাগালা ও ওয়ানগালা পালনের মধ্যে দিয়ে সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় ধরে রাখা যাবে বলে তিনি মনে করেন ।

তিনি বৈবাহিক জীবনের তিন সন্তানের জননী। ছেলে ঢাকায় চাকরি করেন। দুই মেয়েই বিয়ে দিছেন। ছোট মেয়েকে নকনা হিসেবে বাড়িতে নিয়ে আসছেন। তার মতে, মান্দিদের ভাষা সংস্কৃতি কৃষ্টি কালচার ধরে রাখার জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ









যত টাকা পাওয়া গেলো আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে
যত টাকা পাওয়া গেলো আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫৪:৪৬

বিমানের এমডি শফিকুরসহ ৪জন কারাগারে
বিমানের এমডি শফিকুরসহ ৪জন কারাগারে
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২৯:০০


Follow Us