ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

১ ফেব্রুয়ারি রোববার সকালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ।


অনন্য গাঙ্গুলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাধারানী ভট্টাচার্য্যরে বড় ছেলে। তাঁর ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানান, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁদের ধারণা, মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।
অনন্যের মা রাধারানী গাঙ্গুলি বলেন, ‘শনিবার রাতে সে (অনন্য) ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে। রাতে খাবার খেয়ে সে তার শোবার ঘরে চলে যায়। সকাল ৮টার দিকে নাশতা বানিয়ে খাওয়ার জন্য ডাকছিলাম। এ সময় তার কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখতে পাই ফ্যানের সঙ্গে অনন্য ঝুলছে। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।’
রাধারানী বলেন, ‘বাড়ি আসার পর সে আগের মতোই আচরণ করেছে। আমার সঙ্গে কোনো দিন কোনো বিষয় নিয়ে মন খারাপের ঘটনা ঘটেনি। তবে কেন সে এ ধরনের ঘটনা ঘটাল বুঝতে পারছি না।’
কোটচাঁদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত আলী খন্দকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর স্বজনদের সহায়তায় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ মর্গে পাঠানো হয়।’
তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানানো সম্ভব হবে।
অনন্য গাঙ্গুলী পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি—এই তিন পরীক্ষায়ই বৃত্তি অর্জন করেছিলেন। শারীরিক ও মানসিক জটিলতার কারণে কলেজ জীবনে কিছু সময় পড়াশোনায় ছেদ পড়লেও ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ ও যশোর বোর্ডের সাধারণ বৃত্তি লাভ করেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available