• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২০শে মাঘ ১৪৩২ ভোর ০৫:৫৮:৪১ (03-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
১৯ মাস পর আত্রাই সুমন হত্যার রহস্য উন্মোচন

১৯ মাস পর আত্রাই সুমন হত্যার রহস্য উন্মোচন

নওগাঁ প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১৯ মাস পর নওগাঁর আত্রাই থানার চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি শাফিউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পানির ডোবা থেকে নিহত সুমনের (৩৯) কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়েছে।২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় আত্রাই থানায় সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে সুমন  বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। তিনি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার পয়সা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. শাহাদাত হোসেনের ছেলে।পরবর্তীতে বাড়ির পাশে ইটের টুকরার মধ্যে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানায় পরিবার। পুলিশের পাঠানো নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় ওই রক্ত সুমনের বলে শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।দীর্ঘ সময়েও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় সম্প্রতি সুমনের পরিবার ও স্বজনরা নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানান। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলার নথি পর্যালোচনা করে নতুন করে তদন্ত জোরদারের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার ওসি ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সন্দেহভাজন শাফিউলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল বলেন, সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন এবং হাত ধরেন-এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটান।শাফিউলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ জুন তিনি ও তার ছোট ভাই সায়েম সুমনকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে গভীর রাতে বাড়ির পাশের নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর দুই ভাই মিলে লাশ গুম করার জন্য পাশের নিচু জায়গায় মাটি চাপা দেন। উল্লেখ্য, শাফিউলের ভাই সায়েম কয়েক মাস আগে আত্মহত্যা করেন।আসামির দেখানো মতে কয়শা গ্রামের রমজানের পুকুর সংলগ্ন একটি পানির ডোবা সেচ দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিহত সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ ভিড় করেন।এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন,নওগাঁ জেলা পুলিশ জেলার যেকোনো অপরাধ উদঘাটন ও দমনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।