• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৯ই চৈত্র ১৪৩২ রাত ১১:১৮:০৮ (23-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
যুদ্ধবিরোধী সংবাদ প্রচার করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুদ্ধবিরোধী সংবাদ প্রচার করলে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে গণমাধ্যমের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম যুদ্ধসংক্রান্ত প্রতিবেদনে ‘বিকৃত তথ্য’ ছড়াচ্ছে।ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি)-এর চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার ১৪ মার্চ শনিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে ‘জনস্বার্থে’ কাজ করতে হবে, অন্যথায় তাদের লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।তিনি লেখেন, ‘যেসব সম্প্রচারমাধ্যম ভুয়া খবর বা বিকৃত তথ্য প্রচার করছে, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আগে পথ সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন ব্রেন্ডন কার। গত বছর কমেডিয়ান জিমি কিমেল-এর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা হওয়ায় তিনি এবিসি চ্যানেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে গণমাধ্যমকে আক্রমণ করেন। সৌদি আরবে ইরানি হামলায় মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, ঘাঁটিতে হামলা হলেও বিমানগুলো ধ্বংস হয়নি; পাঁচটির মধ্যে চারটি এখনো সচল রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম চায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও যুদ্ধসংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে তিনি সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছিল হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।সাংবাদিকদের ‘দেশপ্রেমিক’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্রতর হচ্ছে’ এ ধরনের নেতিবাচক শিরোনামের বদলে ‘ইরান মরিয়া হয়ে উঠছে’ এ ধরনের ইতিবাচক শিরোনাম ব্যবহার করা উচিত।ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘সেন্সরশিপ’ হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা করেছেন রাজনীতিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। হাওয়াই-এর সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ বলেন, এটি মূলত যুদ্ধের পক্ষে ইতিবাচক প্রচার চালাতে গণমাধ্যমকে চাপ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজ্যুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশনের জনসংযোগ পরিচালক অ্যারন টার বলেন, সরকার যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তার ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী সরকারকে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য সেন্সর করার অনুমতি দেয় না।’গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এ যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে।সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেন। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে বিরোধিতা সবচেয়ে বেশি।তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘আমরা জিতে গেছি। প্রথম এক ঘণ্টাতেই সব শেষ হয়ে গেছে।’সূত্র: আল জাজিরা