• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩ সকাল ১০:০১:৩৯ (04-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
প্রবাসীকে সন্ত্রাসীরা নয়, চট্টগ্রামে স্ত্রী-সন্তানই কুপিয়ে হত্যা করে

প্রবাসীকে সন্ত্রাসীরা নয়, চট্টগ্রামে স্ত্রী-সন্তানই কুপিয়ে হত্যা করে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেনের (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। শুরুতে অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের হামলার কথা প্রচার করা হলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীকে হত্যা করা হয়।১ মে শুক্রবার উপজেলার উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীর স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও তাদের ছেলে রাকিবকে (১৮) গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামা-দা উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগমের দাম্পত্য কলহ চলছিল। দ্বিতীয় বিয়ের পর ২০০৭ সাল থেকেই তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকলেও প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে আবার তাদের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে আগের মতোই বিরোধ অব্যাহত ছিল।গত ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। পরে রহিমা বেগম ও তার ছেলে রবিউল হাসান রাকিব মিলে ঘরে থাকা ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পর হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা এলাকায় প্রচার করেন, রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীরা আলমগীরকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশের কাছে তাদের বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়লে তদন্ত জোরদার করা হয়।দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ঘটনাটি শুরু থেকেই সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।উল্লেখ্য, ২৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের মরদেহ তার বাড়ির বাইরে পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারীর বিষয়টি সামনে এলেও পুলিশের দ্রুত তদন্তে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পায়।