সিংড়ায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, অগ্নিসংযোগে বৃদ্ধার মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার, নাটোর: নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বিএনপি নেতা ও কলেজ শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে ও জবাই করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল করিমের সমর্থকরা প্রতিবেশী ওহাব আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করলে আগুনে পুড়ে মারা যান ওহাব আলীর বৃদ্ধা মা ছাবিহা বেগম।২১ জানুয়ারি বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমার পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রেজাউল করিম কুমার পাড়া মহল্লার ছাবেদ আলীর ছেলে। তিনি উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য এবং বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এলাকায় তিনি একজন শিক্ষিত ও ভদ্র ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম ডায়াবেটিস রোগী হওয়ায় প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খাবার শেষে নিজ বাড়ির সামনে হাঁটছিলেন। এ সময় তাকে একা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। স্থানীয়রা চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ কিংবা জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ।নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, ‘হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত নৃশংস। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।’এদিকে রেজাউল করিম হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা স্থানীয় ওহাব আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে ঘরের ভেতরে থাকা ওহাব আলীর বৃদ্ধা মা ছাবিহা বেগম আগুনে পুড়ে মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দুটি মৃত্যুর ঘটনায় পুরো কলম ইউনিয়নে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের স্বজনরা।