নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান।

১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও গণরায়ের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করায় জনাব তারেক রহমান ও বিএনপি জোটকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ, অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। একই সাথে সকল সংসদ সদস্যদের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন। ধন্যবাদ জানাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। মাগফিরাত কামনা করছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদের। সুস্থতা কামনা করছি আহতদের।


হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দেয়া এক মহান নেয়ামত। তিনি যাদের ওপর দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করেন, তাদের ওপরই জনগণের হক আদায়ের গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করেন। রাষ্ট্র ক্ষমতা কোনো সম্মান লাভের উপায় নয়, বরং এটি এক কঠিন আমানত। এই আমানতের জিম্মাদারি সঠিকভাবে পালন করা এবং ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক শাসকের প্রধান কর্তব্য।
হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা আশা করি, জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যে সরকার গঠিত হবে, তারা সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় অগ্রসর হবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দেশের মসজিদ মাদ্রাসা, আলেম ওলামা, জনগণের ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংরক্ষণ, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মুসলিম শিক্ষা, সভ্যতা ও তাহজীব তামাদ্দুন সংরক্ষণে নতুন সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় সাহসী ভুমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক মত ও পথের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করবে। ফ্যাসিবাদী যে কোনো পন্থার শিকড় মূলোৎপাটনে সাহসী ভুমিকা পালন করবে। ক্ষমতাশীনরা নিজেদেরকে শাসক নয়, জনগণের সেবক মনে করুন।
হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, দেশে নির্বাচন পরবর্তী যে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নৈরাজ্য দেখা যাচ্ছে তা কখনোই কোনো জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং এগুলো সরকার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—সন্ত্রাস ও সহিংসতা দমনে কঠোর কিন্তু ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর প্রশিক্ষণমূলক কর্মপন্থা গ্রহণ করুন। নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক কর্মসূচি জোরদার করে তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার উদ্যোগ নিন।
দেশের নাগরিক সমাজ ও তরুন প্রজন্মের প্রতি আমাদের আহবান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখুন। যে কোনো উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং সহিংস কার্যকলাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন। বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ছোটদের প্রতি মমতার দৃষ্টিতে তাকান।
তারা বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি সকল নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাই পারে একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
তারা আরও বলেন, আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—দেশ পরিচালনায় ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবিচার সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। জনগণের জান-মাল, ইজ্জত ও অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
বিশেষভাবে দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। দোয়া করি—আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল রাখুন, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দান করুন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার শক্তি দিন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available