• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৯শে মাঘ ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৬:২৪:৩০ (11-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:

যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৪:২০:৪১

যেভাবে বিএনপির একক নেতায় পরিণত হলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দেশের দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াইয়ে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে তাঁর।

Ad

নির্বাচনের মাত্র মাসখানেক আগে মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বেই দলের নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে দলটির। দল থেকে ‘একক নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাঁকে।

Ad
Ad

তারেক রহমানকে ঘিরে শুধু বিএনপি সমর্থকরাই স্বপ্ন দেখছেন তা নয়; অনেক আন্তর্জাতিক মিডিয়াই তাকে বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে তাঁর দলের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য এক সংবর্ধনা পেয়েছেন তিনি। মূলত, এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তৈরি করা দলটি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগঠিত ও জনপ্রিয় হওয়ার পর আবার একটি সমস্যা-সংকুল পথ পাড়ি দিয়ে তাদের বড় সন্তান তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার সময়ে পদার্পণ করলো।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আসাটা ছিল অনিবার্য। কিন্তু তাঁর একক নেতৃত্বের প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো এবারের নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই তাঁর রাজনৈতিক পরীক্ষা শুরু হলো।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছেন তারেক রহমান, কিন্তু অতীতের সমালোচনা ও বিতর্ককে ছাপিয়ে এখন তিনি কীভাবে নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে তার দলকে নেতৃত্ব দেন-সেদিকেই সবার দৃষ্টি থাকবে।

যদিও এই নির্বাচনে নেই বিএনপির দীর্ঘকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রাখায় এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না তারা। ফলে, দলটির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে এবার আবির্ভূত হয়েছে এককালের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন তিনি।

প্রায় ১৭ বছর পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন গত ২৫ ডিসেম্বর। এর মাত্র কয়েকদিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর তারেক রহমান হারান তাঁর প্রাণপ্রিয় মাকে। এর ১০ দিন পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন তিনি।

অবশ্য, ২০১৮ সাল থেকে লন্ডনে বসেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তারেক রহমান। এর আগে, ২০০২ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করেছিলেন খালেদা জিয়া। পরে ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার আটকের পর থেকেই বিএনপি আসলে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে, চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের বিএনপির নেতৃত্বে আসাটা ছিল অনেকটা অনিবার্য।

আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের সাফল্য হলো প্রতিকূল সময়ে বিদেশে থেকেও দল ভাঙ্গতে না দেওয়া কিংবা ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারা। যেভাবেই হোক তিনি সবসময়ই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেই ছিলেন। দেশের বাইরে থেকে দল থেকে ধরে রাখায় সাফল্য তিনি দেখিয়েছেন। দেশে ফেরার পর আগের থেকে অনেক বেশি পরিণত মনে হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়— নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোতে এর কতটা প্রতিফলন ঘটে।

বাংলাদেশের প্রথম সামরিক শাসক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে করে আশির দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন বলে তার দলের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সেখানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন কি-না সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে, নির্বাচন কমিশনে এবার যে হলফনামা তারেক রহমান জমা দিয়েছেন তাতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘উচ্চ মাধ্যমিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় আরও অনেক সামরিক কর্মকর্তা পরিবারের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিবারকেও বন্দি করা হয়েছিল। তখন তাদের দুই ছেলে তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমানও বন্দি ছিলেন।

দলের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তারেক রহমানও যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে সক্রিয় হন।

তবে, দলের রাজনীতিতে তার শক্ত প্রভাব শুরু হয়ে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিলো। পরে ২০০২ সালের ২২ জুন দলের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ তৈরি করে তারেক রহমানকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়।

এটাই ছিলো দলের রাজনীতিতে তারেক রহমানের বড় উল্লম্ফন। জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবেই এটা তিনি পেয়েছেন। তাকে ঘিরে পরে দলের মধ্যে তৈরি হয় একটি প্যারালাল নেতৃত্ব বলয়। তারেক রহমান ওই সময় থেকেই সংগঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং দলের তৃণমূলে যোগাযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে তুমুল রাজনৈতিক সংঘাত সহিংসতার জের ধরে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা নিয়েছিলো সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়ে আঠারো মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছিলেন তারেক রহমান। গ্রেফতারের পর র‍্যাব-এর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে ঢাকার একটি আদালতে তোলা হয়েছিল তাঁকে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

যদিও মাত্র মাস ছয়েক আগেও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের ছিল দোর্দণ্ড প্রতাপ, কিন্তু রিমান্ডে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, তিনি তার গবেষণার জন্য বিভিন্ন পক্ষের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছিলেন যে তারেক রহমানকে সত্যিকার অর্থেই নির্যাতন করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিলো তখন তার মা খালেদা জিয়াকে ‘দেশত্যাগে বাধ্য করা’। পরে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে পরিবারের সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর থেকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত লন্ডনেই ছিলেন তিনি।

এই দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর বিএনপি তারেক রহমানকে একক নেতা হিসেবে উপস্থাপনের পাশাপাশি এখন তার একটি ‘ইতিবাচক ভাবমূর্তি’ তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপিকে এবার তার পুরোনো মিত্র জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি লড়াইয়ে নামতে হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারকরা চাইছেন, তারেক রহমান যেন ‘মুক্তিযুদ্ধ ও মধ্যপন্থী গণতন্ত্রের’ একক নেতার প্রতিমূর্তি হিসেবে জনমনে চিত্রিত হতে পারেন।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

এনসিপির নেতৃবৃন্দরা কে কোথায় ভোট দেবেন
এনসিপির নেতৃবৃন্দরা কে কোথায় ভোট দেবেন
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:২২:২১


ভোটের সময় কত টাকা বহন করা যাবে, জানালেন ইসি সচিব
ভোটের সময় কত টাকা বহন করা যাবে, জানালেন ইসি সচিব
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৫:৪৫:২৯






গাজীপুর–১ আসনের নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু
গাজীপুর–১ আসনের নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ শুরু
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৪:৪০:০৬

উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দেবেন
উপদেষ্টারা কে কোথায় ভোট দেবেন
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল ০৪:৩২:২৬


Follow Us