আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগেই দেশটির বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
১৬ জুন মঙ্গলবার ইরান সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তাখত-রাভানচি বলেন, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ছিল তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি। তার ভাষায়, ‘আমরা শুরু থেকেই এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছিলাম। এখন অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই তা কার্যকর করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ শিথিলের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে এর পরিধি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে, বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা সংস্থা জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কিছু সামুদ্রিক বিধিনিষেধ বহাল থাকার কথা ছিল। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা চলছিল বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষই সম্ভাব্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নৌ অবরোধ শিথিল বা প্রত্যাহার কার্যকর হলে তা ইরানের অর্থনীতি ছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞার পরিধি এবং সম্ভাব্য সমঝোতা কাঠামো নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available