আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার নতুন রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে দলের বড় ধরনের পরাজয়ের পর এই পদত্যাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
১৪ মে বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয়ের মূল কারণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তার ঘাটতি।


৪৩ বছর বয়সী স্ট্রিটিং আরও বলেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে স্টারমার লেবার পার্টিকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না বলে তিনি মনে করেন। তিনি দলীয় এমপি ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ শুরুর আহ্বান জানান। তবে তিনি নিজে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামার ঘোষণা দেননি।

স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবার এমপি জশ সাইমন্স সংসদ সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য পার্লামেন্টে ফেরার পথ তৈরি করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাইমন্সের পদত্যাগে আসনটি শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অ্যান্ডি বার্নহাম পরে জানান, তিনি ওই উপনির্বাচনে অংশ নিতে দলের অনুমোদন চাইবেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
এদিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারের নামও আলোচনায় এসেছে। করসংক্রান্ত বিতর্কে তিনি মন্ত্রিসভা ছাড়লেও পরে কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করে।
বর্তমানে কয়েকজন জুনিয়র মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং বহু লেবার এমপি দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন বা সময়সীমা নির্ধারণের দাবি তুলেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে নেতৃত্বচ্যুত করার প্রক্রিয়া শুরু করেননি।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই কিয়ার স্টারমার নতুন স্বাস্থ্যসচিব হিসেবে জেমস মারে এবং ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি হিসেবে লুসি রিগবিকে নিয়োগ দিয়েছেন। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন না এবং তিনি সরকার পরিচালনায় মনোযোগী রয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসসহ লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা এখনো স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দলীয় বিভাজন দেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available