আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২২ দিনে গড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত। প্রথম আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে, শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে তেহরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ভয়ংকর সব হামলা চালিয়ে শত্রুপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে দেশটি।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের ২২ দিনের মাথায় এসে এবার বন্ধু হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার কাছ থেকেও শক্ত সমর্থন বার্তা পেয়েছে ইরান। ২১ মার্চ শনিবার নওরোজ বা ফারসি নববর্ষ উপলক্ষে ইরানের নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেছেন, একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তেহরানের পাশে রয়েছে মস্কো।


রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানায়, শনিবার পুতিন এ বার্তা দিয়েছেন। ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, ভ্লাদিমির পুতিন ইরানি জনগণকে এই কঠোর পরীক্ষা সসম্মানে কাটিয়ে ওঠার শুভকামনা জানিয়েছেন।

ক্রেমলিন জানায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক গভীর অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে এবং একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। পুতিন একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ওয়াশিংটনের কাছে একটি শর্ত প্রস্তাব করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়ার বিষয়ে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করে, তবে রাশিয়াও ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ক্রেমলিন এই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ফলে রাশিয়া এক মিত্রকে হারিয়েছে। তবে কৌশলগত অংশীদার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার ফলে তেলের উচ্চমূল্য থেকে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের চুক্তি রয়েছে। এর প্রকাশিত কাগজ-পত্রে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ নেই।
ইরানের পাশে থাকলেও রাশিয়া বারবার বলে আসছে, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করুক, তা তারা চায় না। কারণ মস্কোর আশঙ্কা, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও তা বানাতে চাইবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available