অনলাইন ডেস্ক: অর্ধশতকেরও বেশি সময় পর আবার মানুষ চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার ‘আর্টেমিস-টু’ মিশনে চারজন মহাকাশচারী চন্দ্রাভিযানে অংশ নেবেন।

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো মিশনের পর দীর্ঘ ৫৪ বছরের বিরতি শেষে এটি হবে মানুষের চাঁদের দিকে যাত্রা। নাসার বহু-বিলিয়ন ডলারের ‘আর্টেমিস মুন মিশন’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এই অভিযান। এর আগে ২০২২ সালে ‘আর্টেমিস-ওয়ান’ মিশনে কোনো মানুষ ছাড়াই চাঁদের কক্ষপথে রকেট পাঠানো হয়েছিল।


নাসা জানিয়েছে, এবারের মিশনে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশের পাশাপাশি মানব ইতিহাসের আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে মহাকাশের সবচেয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে পৌঁছাবে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’।
আর্টেমিস-টু মিশনের ম্যানেজমেন্ট টিমের চেয়ারম্যান জন হানিকাট বলেন, মহাকাশচারীদের নিয়ে এই চন্দ্রভ্রমণ চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ। ১০ দিনের এই অভিযানে মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে রকেটের লাইফ সাপোর্ট ও ন্যাভিগেশন সিস্টেম কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা হবে। ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতিতে এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই মিশনের নেতৃত্ব দেবেন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান। তার সঙ্গে থাকবেন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। তবে এই অভিযানে চাঁদে অবতরণ করা হবে না। চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ, প্রয়োজনীয় গবেষণা ও ‘আর্টেমিস-থ্রি’ মিশনের প্রস্তুতি শেষে দলটি পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার মিশনের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে তরল হাইড্রোজেন লিকেজ ধরা পড়ায় মিশন সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নাসা। কক্ষপথের জটিল হিসাব-নিকাশ বিবেচনায় আগামী মার্চ মাসে আর্টেমিস-টু মিশনের সম্ভাব্য যাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available