আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ‘পছন্দ করুক বা না করুক’, যুক্তরাষ্ট্র সেটি ‘দখল’ করবে। তিনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয় সময় ৯ জানুয়ারি শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া বা চীন যাতে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে না পারে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে। তিনি ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের আশপাশের জলসীমা যথাযথভাবে সুরক্ষিত না করার অভিযোগও করেন। যদিও স্থানীয় রাজনীতিকেরা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। খবর আল জাজিরার।


ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করবই—তারা পছন্দ করুক বা না করুক। আমরা যদি না করি, রাশিয়া বা চীন সেখানে ঢুকে পড়বে। আমরা রাশিয়া বা চীনকে প্রতিবেশী হিসেবে চাই না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমি বিষয়টি সহজ পথে মিটমাট করে নিতে চাই। কিন্তু যদি তা না হয়, তাহলে কঠিন পথেই যাব।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া
গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎসফেল্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডকেই নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।
ড্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর-কে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলবে—এটাই হওয়া উচিত।
ভিভিয়ান মোৎসফেল্ট আরও বলেন, ডেনমার্কের বাইরে থেকেও অন্য দেশের সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করার সক্ষমতা গ্রিনল্যান্ডের থাকা প্রয়োজন। যদিও রুবিওর সঙ্গে আগামী সপ্তাহের বৈঠকটি ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেনের সঙ্গেই যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
মোৎসফেল্ট বলেন, গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে পূর্ণ রাষ্ট্র হওয়ার পথে এগোচ্ছে, যার জন্য নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োজন হবে। তবে এখনও সে পর্যায়ে না পৌঁছানোয় বিদ্যমান আইন ও কাঠামোর মধ্যেই চলতে হবে।
ন্যাটো নিয়ে উদ্বেগ
মার্কো রুবিও শুক্রবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠক করেন। ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ‘হাই নর্থ’-এ সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সশস্ত্রভাবে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তাহলে তা ন্যাটোর ভবিষ্যৎকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
তবে ইউরোপে ন্যাটো বাহিনীর প্রধান মার্কিন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বলেন, জোট এখনও কোনো সংকটে নেই। ফিনল্যান্ড সফরকালে তিনি বলেন, আমরা এখনও জোটের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষা করতে প্রস্তুত।
মোৎসফেল্ট আশা প্রকাশ করেন, রুবিওর সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হবে, তবে কী ফল আসবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন, আবার যুক্তরাষ্ট্রেরও গ্রিনল্যান্ডকে প্রয়োজন। এই পারস্পরিক দায়িত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available