• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৮শে চৈত্র ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৬:১৭:৫৯ (11-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:

শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা টাকার বিনিময়ে মীমাংসা!

১১ এপ্রিল ২০২৬ বিকাল ০৩:৪৫:১৪

শিশু ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা টাকার বিনিময়ে মীমাংসা!

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়াতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২১ দিন বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে স্থানীয় ১৭ সালিশদার। সালিশে ৩০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।  

অভিযুক্ত মো. মোছলেউদ্দিন (৬০) উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার চৌমুহনী এলাকার সেকান্তর মিয়ার ছেলে এবং ভুক্তভোগী শিশুর দূর সম্পর্কের জেঠা।  

Ad
Ad

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা একজন ওমান প্রবাসী। তার মা বাড়িতে দুই ছেলে-মেয়ে বসবাস করেন। স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকে পার্শ্ববর্তী ঘরের মোছলেউদ্দিন ভিকটিমের মাকে বিভিন্নভাবে অঙ্গভঙ্গি করে কুপ্রস্তাব দিত। রাতে বসতঘরের জানালা দিয়ে ওই নারীর ঘরের দিকে উঁকি মারত। সামাজিকভাবে বিষয়টি জানালে তাকে সতর্ক করা হয়। গত ১৭ মার্চ ভিকটিমের মা ঈদের বাজার করতে স্থানীয় চৌমুহনী বাজারে যায়। ওই সুযোগে মোছলেউদ্দিন ভিকটিমকে তাদের বসতঘরের সামনে থেকে কোলে করে তার পুকুর পাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে শিশুটির চিৎকার শুনে তার স্বজনেরা এগিয়ে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির মা থানায় লিখিত অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পায়নি। উল্টো পুলিশ তাকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করতে বলে। এরপর গত মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল সালিশি বৈঠকে ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয়।  

Ad

সালিশদার মো. ফারুক বলেন, ভিকটিম মা থানায় একটি পিটিশন মামলা করেন। এ ঘটনায় আমরা ১৭-১৮জন সালিশদার নিয়ে একটি বৈঠক বসি। ওই বৈঠকে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার সত্যতা আমরা পাইনি। পরে মহিলা মামলা প্রত্যাহার করে। শিশুটিকে থাপ্পড় দেওয়ার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়। হাজী বেলাল উদ্দিন নামে একজনের কাছে জরিমানার ৩০ হাজার টাকা জমা আছে। মেয়ের মা টাকার জন্য আসলে তাকে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু মেয়ের মা টাকা নিতে আসেনি।      

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. মোছলেউদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, মারামারির একটি ঘটনা নিয়ে বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে বিষয়টি মিটমাট করা হয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি কীভাবে সামাজিকভাবে ভাঙ্গা হয়েছে। এটি তিনি বলতে পারবেন না, সেটা সমাজ জানে।  

যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগী শিশুর মা শনিবার দুপুরের দিকে জানিয়েছেন, তিনি জরিমানার টাকা পেয়েছেন। তিনি তার শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পাল্টা তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। সালিশি বৈঠকের পর দুটি মামলা তুলে নেওয়া হয়। এপর্যায়ে তিনি পুলিশ ও সালিশদারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন।    

এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন, ভিকটিমের মা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরিদর্শক তদন্তের নেতৃত্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। উপরন্তু ওখানে উনাদের সাথে অভিযুক্তদের পারিবারিক বিরোধ আছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এ অভিযোগ করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, শিশু বাচ্চাদের মধ্যে মারামারি ঘটনায় যিনি অভিযুক্ত তার নাতিও ছিল। ওই নারীর সন্তানেরা তার নাতিকে মারধর করে। এজন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর মেয়েকে থাপ্পড় দেয়। এটাই সত্যতা পাওয়া গেছে। তারপরও ভিকটিমের মাকে বলা হয়ে মামলা করতে। আমরা তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কিন্তু তিনি মামলা করতে আসেননি। আমরা এই নিষ্পত্তির সাথে যুক্ত নেই। 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

মোহনপুরে হত্যার ৫ ঘণ্টার মধ্যে আসামি আটক
মোহনপুরে হত্যার ৫ ঘণ্টার মধ্যে আসামি আটক
১১ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১৫:০০











Follow Us