লক্ষ্মীপুর (উত্তর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় বেলাল হোসেন মিশরী (৫০) নামে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
৫ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের ব্যস্ততম রায়পুর প্রধান সড়কে একটি ফলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


নিহত বেলাল হোসেন মিশরী রায়পুর উপজেলাধীন কেরোয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে পৌর শহরের মেইন রোড এলাকায় রিকশা দাঁড় করানোকে কেন্দ্র করে একটি তর্কের সূত্রপাত হয়। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ আলম বয়াতির ছেলে আরমান (৩৫) তার রিকশা রাস্তার পাশে দাঁড় করালে ওই সময় একই এলাকার কবির মুহুরী (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রথমে বিষয়টি তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বেলাল হোসেন মিশোরী দুই পক্ষকে শান্ত করতে এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলাল হোসেন পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আরমান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি বেলাল হোসেনের বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। এতে বেলাল হোসেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিহতের ছোট ভাই হেলাল হোসেন বলেন, আমার ভাই ঝগড়া থামাতে গিয়েছিল। কিন্তু তাকে অকারণে মারধর করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে ঘটনাটি ঘটার পরপরই রায়পুর মেইন সড়ক এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত আরমান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাকে আটকের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available