স্টাফ রিপোর্টার, টাঙ্গাইল : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার ৮টি আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। তবে এবারের নির্বাচনে আলোচিত দিক হচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এক হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ ভোটাররা।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ৮টি আসলে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বিঘ্ন করতে জেলাজুড়ে এক হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রের ৬ হাজার ৩৪১টি বুথ (কক্ষ) প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৯০৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি এই সিসি ক্যামেরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা আনতে ‘ওষুধের’ কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ভোটের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভোট জালিয়াতি রোধে পুরো জেলাজুড়ে দুই হাজার ৩৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- প্রতিটি বুথ ও ভোটকেন্দ্রের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখা। ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করা।
ইলেকশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে এই ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ, অনিয়ম বা পেশিশক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়- তবে সিসি ক্যামেরার প্রমাণের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইলেকশন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, টাঙ্গাইলের ৮টি পার্লামেন্টারিয়ান সিটে এক হাজার ৬৩টি ভোটকেন্দ্রে মোট ৬ হাজার ৩৪১টি ভোট কক্ষ বা বুথ রয়েছে। ভোটারদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৬৩০ জন এবং নারী ভোটার ১৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫ জন। বিপুল সংখ্যক এই ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরার এই বুথ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ক্ষেত্রে ঝুঁঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মোট ৬ হাজার ৩৪১টি ভোট বুথের প্রতিটিতে এবং কেন্দ্রের প্রবেশপথে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে- যা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
স্থানীয় ভোটাররা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মতে, সিসি ক্যামেরা থাকায় কেন্দ্র দখল বা জাল ভোটের ভয় অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফ থেকে বলা হচ্ছে- প্রযুক্তির এই ব্যবহার কেবল অপরাধ দমন নয় বরং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেও মাইলফলক হয়ে থাকবে।
টাঙ্গাইলের রিটার্নিং অফিসার শরীফা হকের কাজে সহায়তাকারী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কোনো কেন্দ্রে গোলযোগ বা অনিয়মের আভাস পাওয়া যায়, তবে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি প্রয়োজনে ভোট গ্রহণ স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার সাহস জোগাবে। ডিজিটাল এই পাহারায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে কেন্দ্রে আসবেন- এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available