পাবনা প্রতিনিধি: নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পাবনার ফরিদপুরের একটি ডোবা থেকে স্কুলছাত্রী সুরাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শুরুতে ঘটনাটি সম্পূর্ণ রহস্যজনক মনে হলেও জেলা গোয়েন্দা শাখা পাবনা (ডিবি) পুলিশের এস আই অসিত ও এস আই আ. লতিফের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস টিমের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক সত্য।


তারা তদন্তের পরে জানতে পারে, ভিকটিম সুরাইয়া সবুজ নামের এক কিশোরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিল এবং তাকে পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু প্রেমিক সবুজ আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় সুরাইয়ার মনে হয় সংসার শুরু করতে হলে অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এগিয়ে আসে সুরাইয়ার আপন চাচাতো বোন ডালিয়া ও তার স্বামী আব্দুল লতিফ। লতিফ শারীরিক ভাবে গুরুতর অসুস্থ, বুকে সমস্যা থাকায় কোনো পরিশ্রমের কাজ করতে পারত না। ফলে তাদের সংসারে চরম অভাব লেগেই থাকত।
সুরাইয়ার প্রেমের সম্পর্ক ও পালিয়ে বিয়ের বিষয়টি জেনে ডালিয়া ও লতিফ পরিকল্পনা করে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ও ভীতু প্রকৃতির সুরাইয়ার দাদা-দাদির কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার। একই সঙ্গে তারা সুরাইয়া ও তার প্রেমিকের বিয়ে এবং নিজেদের সংসারের অভাব মেটানোর স্বার্থে একটি সাজানো অপহরণের ফন্দি আঁটে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার কয়েকদিন আগে সুরাইয়া, ডালিয়া ও লতিফ মিলে অপহরণের ছক তৈরি করে। গত ১৩ জানুয়ারি ডালিয়া বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে সুরাইয়াকে নিয়ে কাজিটোল এলাকায় আসে। সেখানে আগে থেকেই লতিফ অবস্থান করছিল। এরপর তিনজন মিলে জমির ভেতর দিয়ে ফরিদপুর জন্তিহারে গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরে যায়। সেখানে খাবারের সঙ্গে কৌশলে প্রায় ১০টি ঘুমের ওষুধ সুরাইয়াকে খাওয়ানো হয়। পরে ডালিয়া ও লতিফ বাড়ি ফিরে যায়। গভীর রাতে তারা আবার ওই ঘরে গিয়ে দেখে সুরাইয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ। ততক্ষণে সে মারা গেছে। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং অপহরণের নাটক বাস্তব বলে দেখাতে তারা মৃত সুরাইয়ার হাত-পা বেঁধে রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ১৭ জানুয়ারি লতিফের ব্যবহৃত একটি সিমকার্ড থেকে সুরাইয়ার দাদার কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়, যাতে অপহরণের ঘটনা সত্য বলে মনে হয়। ডিবি পুলিশের নিবিড় তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সব রহস্য উদঘাটিত হয় এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামি আব্দুল লতিফ (জন্তিহার, ফরিদপুর) এবং ডালিয়া (ভিকটিমের চাচাতো বোন ও লতিফের স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পাবনা জেলা পুলিশ দ্রুত ও পেশাদারিত্ব পূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনেছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ জানায়, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available