লক্ষ্মীপু প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে এবার টমেটোর ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন আশা করা হচ্ছে। তবে ভালো ফলন সত্ত্বেও সারের দাম বৃদ্ধি ও জেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
অবশ্য কৃষি বিভাগ বলছে, দ্রুতই জেলায় সবজি সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় মাঠগুলোতে এখন পাকা টমেটোর লাল আভা। অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় এবার ফলন হয়েছে নজরকাড়া। সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঠজুড়ে এখন শুধু টমেটো তোলার ব্যস্ততা।


চাষিরা জানান, সারের দাম বাড়ায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি। তবে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে লাভের আশায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিমাগার সমস্যা। জেলায় কোনো কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় পাকা টমেটো বেশিদিন ধরে রাখা সম্ভব হয় না। পচনশীল এই পণ্য দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে অনেক সময় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয় চাষিদের। এদিকে সার আর কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং জমির ইজারার ঋণের দায়ে অপরিপক্ব টমেটো বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কেউ কেউ।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক বেলাল বলেন, আল্লাহর রহমতে ফলন অনেক ভালো হইছে। এখন বাজারে যে দাম আছে, এইটা থাকলে আমরা লাভ করতে পারমু। কিন্তু সারের দামটা অনেক বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। টমেটো পেকে গেলে একদিনও ঘরে রাখা যায় না। হিমাগার থাকলে আমরা দাম যখন বেশি হয় তখন বেচতে পারতাম। সংরক্ষণের অভাবে আমাদের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, লক্ষ্মীপুরে টমেটোর ভালো ফলন হয়েছে। যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য পান এজন্য দ্রুত বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হলে লক্ষ্মীপুরের কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available