• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৯ই চৈত্র ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৬:৩১:৫৩ (23-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
ঈদ উদযাপনে জ্যোতির্বিজ্ঞান বা হিজরী ক্যালেন্ডারে নির্ভরতা শীর্ষক আলোচনা

ঈদ উদযাপনে জ্যোতির্বিজ্ঞান বা হিজরী ক্যালেন্ডারে নির্ভরতা শীর্ষক আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদ উদযাপনে জ্যোতির্বিজ্ঞান বা হিজরী ক্যালেন্ডারের উপর নির্ভর বৈধ নয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে পুরাতন ঢাকার আজিমপুর ছাপড়া জামে মসজিদে একটি জরুরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি করা, যাতে রোজা ও ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বিজ্ঞান বা হিজরী ক্যালেন্ডারের উপর নির্ভর করা না হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের পরিচালক ও আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের খতিব মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস। বক্তব্য রাখেন রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্য ইসলামি পণ্ডিতরা।মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ইসলামে চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করা বাধ্যতামূলক। জ্যোতির্বিজ্ঞানের তৈরি হিজরী ক্যালেন্ডারের উপর নির্ভর করা বৈধ নয়।তিনি পাঁচটি মূল কারণ উল্লেখ করে বলেন, কোরআন ও সহিহ হাদিস অনুযায়ী চাঁদ দেখে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন করা প্রয়োজন; ক্যালেন্ডার দ্বারা পূর্বনির্ধারিত দিন অনুসরণ বৈধ নয়। নবীজির যুগে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিদ্যমান ছিল, সত্ত্বেও চাঁদ দেখা নিশ্চিতকরণের জন্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ নির্দেশ করা হয়েছিল। ইসলামের খলিফারা এবং সাহাবাগণ জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী রোজা ঈদ পালন করেননি। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব শতভাগ নির্ভুল নয়; চাঁদ দেখা নিশ্চিত করা যায় না। ইতিহাসে রাফিজি সম্প্রদায়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এবং এ ধরনের ক্যালেন্ডার ভিত্তিক ঈদ উদযাপন ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।মুফতি জুবায়ের আরও বলেন, ‘নিজ অঞ্চলে চাঁদ না দেখে সৌদি আরব বা দূরবর্তী অন্য অঞ্চলের খবর অনুযায়ী ঈদ উদযাপনও ইসলামের বিধান নয়।’ তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আফগানিস্তান, নাইজার ও মালির মুসলমানরা চাঁদ দেখে ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপন করছেন, অথচ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী তা হওয়া সম্ভব ছিল না।সভায় মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলাম স্পষ্টভাবে চাঁদ দেখার বিধান দিয়েছে। বিজ্ঞান বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক পথে রাখুন।’উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা জামে মসজিদের খতিব মুফতি বাইজিদ বিন আনাস, মুফতি ইউশা শফিকী, মুফতি মহিউদ্দিন এবং দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভা দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।