• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩৩ রাত ০২:১৭:১২ (19-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
সুন্দরবনে ডাকাতের কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলে উদ্ধার

সুন্দরবনে ডাকাতের কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলে উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক: সুন্দরবনের পৃথক দুটি অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছ থেকে জিম্মি থাকা ২১ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।২২ মে শুক্রবার কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্টগার্ড ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তমবারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ এর আওতায় পৃথক দুটি অভিযান চালানো হয়।কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীরে গেলে ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে জেলেদের নিয়ে ডাকাতরা কয়রা থানার আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল এলাকায় অবস্থান নেয়।এ ঘটনায় গত ২১ মে ভোর ৪টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন কয়রা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর কাছ থেকে জিম্মি থাকা ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়।অন্যদিকে, কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় অবস্থান করছে। একই দিন বিকেল ৫টার দিকে কোস্টগার্ড বেইস মোংলা সেখানে আরেকটি বিশেষ অভিযান চালায়।অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলের ওপর গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও এক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে আরও ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও চলছে।কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।