• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২০শে মাঘ ১৪৩২ সকাল ০৭:১০:৫৩ (02-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
মেঝেতে স্ত্রীর মরদেহ, বিছানায় অচেতন অবস্থায় সাংবাদিক

মেঝেতে স্ত্রীর মরদেহ, বিছানায় অচেতন অবস্থায় সাংবাদিক

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে গোলাম কিবরিয়া কামাল (৫৫) নামে এক সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়াকে। নিহত নারীর নাম রওশন আরা।৩০ জানুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর হড়গ্রাম বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।গোলাম কিবরিয়া কামাল স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদ-এর উপ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রওশন আরাকে মৃত ঘোষণা করেন।রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন জানান, রওশন আরাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার গলায় কাপড় পেঁচানো ছিল, প্রাথমিকভাবে যা শ্বাসরোধের আলামত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গোলাম কিবরিয়ার হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি কীটনাশক সেবন করেছেন বলে চিকিৎসকরা জানান। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার সময় সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া ও তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন। প্রতিবেশীরা একপর্যায়ে চিৎকারের শব্দ শুনলেও কিছুক্ষণ পর তা থেমে যায়। পরে তাদের মেয়ে বাইরে থেকে এসে দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মেঝেতে রওশন আরার মরদেহ এবং বিছানায় অচেতন অবস্থায় গোলাম কিবরিয়াকে দেখতে পান।স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, গোলাম কিবরিয়ার দুই স্ত্রী রয়েছে। প্রথম স্ত্রী ও সন্তান বগুড়ায় বসবাস করেন। রওশন আরাকে নিয়ে তিনি রাজশাহীতে থাকতেন। সম্প্রতি তিনি ডাক বিভাগের অফিস সহকারী পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পেনশনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে স্বজনরা জানান।রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’