• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১লা মাঘ ১৪৩২ রাত ১১:৫১:২৩ (14-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
অধিকার থেকে বঞ্চিত বেদেরা, জীবিকার তাগিদে করছে ভিক্ষা

অধিকার থেকে বঞ্চিত বেদেরা, জীবিকার তাগিদে করছে ভিক্ষা

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: এক সময় নদীকেন্দ্রিক যাযাবর জীবনই ছিল বেদে সম্প্রদায়ের পরিচয়। ছোট নৌকায় এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে ঘুরে লোকজ চিকিৎসা, দাঁতের পোকা তোলা, শিঙ্গা লাগানো কিংবা সাপ ও বাদর খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত তারা। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই জীবনধারা আজ বিলুপ্তপ্রায়। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে এখন অনেক বেদে পরিবার জীবিকার তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বসবাসরত বেদে সম্প্রদায়ের বর্তমান চিত্র আরও করুণ। ভুবনেশ্বর নদের তীরে গড়ে ওঠা বেদে পল্লীতে দেখা গেছে, এখানকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকায় কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবই এ সমস্যার মূল কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ভিক্ষার নামে পথচারীদের হয়রানি করায় সাধারণ মানুষও বিব্রত হচ্ছে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে শিশুদের জীবন। বেদে পল্লীর অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ের মুখ দেখেনি। কেউ কেউ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কিংবা পোলিও টিকাসহ নিয়মিত টিকাদান থেকেও বঞ্চিত। অভিযোগ রয়েছে, অল্প বয়সেই কিছু শিশু মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। অথচ এত করুণ বাস্তবতায় সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ খুবই সীমিত।বেদে সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, আগের মতো মানুষ তাদের লোকজ চিকিৎসা নেয় না, সাপ বা বাদর খেলাও আর আগ্রহের বিষয় নয়। ফলে ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নিতে হচ্ছে।এলাকাবাসীর দাবি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীকে মূলধারার সমাজে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে হয়রানিমূলক ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে।এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, ‘বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে শুধু প্রশাসন নয়, এনজিওসহ সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’