• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ৭ই বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ১২:৪১:২০ (21-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ-বিপননে নিষেধাজ্ঞা জারি

মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ-বিপননে নিষেধাজ্ঞা জারি

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি: রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ-এ মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।২০ এপ্রিল সোমবার বিকেলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় জানানো হয়, হ্রদের মাছের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই প্রতিবছরের মতো এবারও এই মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং হ্রদনির্ভর জীবিকা আরও টেকসই হবে।জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “মাছের প্রজনন মৌসুমে এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌ ও সড়কপথে মাইকিংসহ ব্যাপক প্রচার চালানো হবে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে মাছ আহরণ ঠেকাতে হ্রদে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হবে।সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক হায়দার বলেন, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হ্রদনির্ভর কার্ডধারী জেলেদের জন্য সরকার ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির আওতায় চাল সহায়তা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে জেলেদের জীবিকা সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মো. ফয়েজ আল করিম, আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম, মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন চক্র রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।