• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১১ই বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ০৯:৩৫:২১ (24-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবদেক: বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় এই তথ্য।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের শরীরে হাম।এই এক মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, যার মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২ হাজার ৩১৮ জন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স দুই বছরের নিচে। মৃত ১৬৬ শিশুর অধিকাংশই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া। এক থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের রোগপ্রতিরোধ সক্ষমতার ঘাটতি, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ।হামের সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে। যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩। ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল ও মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ।ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এবং নিয়মিত টিকাদানে শিথিলতার কারণে তৈরি হয়েছে এই প্রাদুর্ভাব। সংস্থাটি বলছে, ৯১ শতাংশ জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়া প্রমাণ করে যে সংক্রমণ এখন জাতীয়ভাবে বিস্তৃত।এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের স্থলবন্দরগুলো দিয়ে মানুষের যাতায়াতের ফলে ‘উচ্চ’ পর্যায়ে রয়েছে আন্তঃদেশীয় সংক্রমণের ঝুঁকি।এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের আনা হয়েছে এই কর্মসূচির আওতায়। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।হাম প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ নিশ্চিত করা। সীমান্ত এলাকা ও আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টগুলোতে নজরদারি জোরদার। সন্দেহভাজন রোগীকে দ্রুত আইসোলেশন বা আলাদা করে উন্নত চিকিৎসা প্রদান। স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান।