১৮ হাজার যুবককে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: আসিফ নজরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে ১৮ হাজার যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ সংখ্যা যথেষ্ট নয়, ভবিষ্যতে এটি আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন।৪ জানুয়ারি রোববার সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।ড. আসিফ নজরুল বলেন, ফ্রিল্যান্সিং শিক্ষিত যুবকদের জন্য একটি বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র। এতে চাকরির পেছনে ঘুরতে হয় না এবং ব্যবসা শুরু করতে বড় কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। ঘরে বসেই কাজ করা যায়, সময় ও স্থানের সীমাবদ্ধতা এখানে কার্যত গুরুত্বহীন।তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশের যুবকদের জন্য ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো এই সুযোগ ব্যাপকভাবে কাজে লাগাচ্ছে, অথচ বাংলাদেশ এখনো পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি।যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, এই ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। প্রকল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ শেষ হলে কার্যক্রমও শেষ এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে প্রশিক্ষণকে মূলধারায় আনতে হবে। মন্ত্রণালয়ের জনবল ও সম্পদ ব্যবহার করে প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রাখা যায় কি না, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বেকারত্ব কমানো, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য এ খাতে করণীয় নির্ধারণ করে একটি প্রস্তাবনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।প্রশিক্ষণ শেষে একটি ওয়ানডে ওয়ার্কিং সেশন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, সফল ফ্রিল্যান্সাররা যদি তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন, তাহলে এটি নতুনদের জন্য আরও অনুপ্রেরণামূলক হবে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তিন মাস মেয়াদি পঞ্চম ব্যাচের (১ জানুয়ারি ২০২৬–৩১ মার্চ ২০২৬) প্রশিক্ষণ কোর্সে দেশের ৪৮টি জেলায় প্রতি জেলায় তিনটি ব্যাচে ৭৫ জন করে মোট ৩ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ন্যূনতম এইচএসসি বা সমমান উত্তীর্ণ কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীরা এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৪৮ জেলায় মোট ১০ হাজার ৮০০ জন যুব ও যুব নারী সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ৬ হাজার ৭৩২ জন দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৬ মার্কিন ডলার আয় করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ২ লাখ টাকার সমপরিমাণ। এই আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।