• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২২শে মাঘ ১৪৩২ বিকাল ০৫:৪৮:১৮ (04-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
নারী অধিকার ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

নারী অধিকার ও সংখ্যালঘু প্রশ্নে আপস হলে জামায়াতের সঙ্গে জোট টিকবে না: নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট: নারী অধিকার ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গড়ে ওঠা জোট টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি রোববার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়। সেখানে নাহিদ ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, জামায়াতকে চরম ডানপন্থী আদর্শের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই উদ্বেগের সমাধান তিনি কীভাবে দেখেন?জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াতের সঙ্গে গঠিত জোটটি এখনও চূড়ান্ত কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি। নির্বাচনী সহযোগিতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে এসব বিষয় ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। বর্তমানে এনসিপি ও জামায়াতের পৃথক ইশতেহার রয়েছে।তিনি আরও বলেন, জামায়াত আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে এসেছে এবং জানিয়েছে, তারা পুরোনো মূল আদর্শের ভিত্তিতে সরকার গঠন করবে না। দলটি এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও এমনকি একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথাও বলছে। তবে নারী ও সংখ্যালঘুদের প্রশ্নে যদি আমাদের মূল অবস্থানের সঙ্গে আপস করা হয়, তাহলে এই জোট টিকবে না।এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জামায়াত জানিয়েছে তারা উদার নীতির মধ্যেই থাকবে। যদি জোট সরকার গঠিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রকে ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোর দিকে নেওয়া হবে না। বরং একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে। নারী ও সংখ্যালঘুদের সমস্যা সমাধান আমাদের মৌলিক প্রতিশ্রুতি এবং এটি এনসিপির অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ।নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি জোটের অংশ হিসেবে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। কতটি আসনে দলটি জয় পাবে, তা এখনই বলা কঠিন, কারণ এটি একটি নতুন দল এবং পূর্ববর্তী কোনো নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নেই। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এনসিপি ও জোট ভালো ফল করবে এবং নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক।জোটটি কেবল নির্বাচনী নাকি আদর্শিক ভিত্তিও রয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি মূলত নির্বাচনী জোট, যেখানে আসনভিত্তিক সমন্বয় রয়েছে। তবে কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কার। এ লক্ষ্যে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে।তিনি বলেন, যদি জোট সরকার গঠন করে, তাহলে যৌথভাবে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। সংস্কারের পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষাও তাদের প্রধান এজেন্ডা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর আধিপত্যের বিরোধিতা করে একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির ওপর জোর দেন তিনি।ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক চায়। তবে ভারতের বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন বিরোধ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হবে। ভারতের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রায় দেওয়া হয়েছে তাদের ফেরত দেওয়া হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত হতে পারে। অন্যথায় সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে তিনি জানান, দলের ভেতরে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন রয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তকে নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে না করে ১০ থেকে ১২ জন নেতা দল ত্যাগ করেছেন। তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ফিরে এলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।সবশেষে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতাদের জন্য একক দল গঠন করা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে স্বাধীনভাবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।