• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২০শে মাঘ ১৪৩২ ভোর ০৫:২৪:৫৩ (03-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
সেদ্ধ না ভাজা ডিম, কোনটা শরীরের জন্য বেশি উপকারী জানালেন পুষ্টিবিদ

সেদ্ধ না ভাজা ডিম, কোনটা শরীরের জন্য বেশি উপকারী জানালেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সকালের নাশতা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার এ কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি। আর সেই নাশতার তালিকায় ডিম যেন চিরচেনা ও নির্ভরযোগ্য একটি নাম। সহজলভ্য, রান্না করা সহজ এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় বিশ্বজুড়েই সকালের খাবার হিসেবে ডিমের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তবে প্রশ্ন একটাই ডিম সেদ্ধ খাবেন, নাকি ভাজা?পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম এমন একটি খাবার যেখানে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদানই পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ডিম খাওয়ার ধরন অনুযায়ী এর উপকারিতায় কিছুটা পার্থক্য তৈরি হতে পারে।ডিমের পুষ্টিএকটি মাঝারি আকারের ডিমে থাকে প্রায়৬ গ্রাম প্রোটিন৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বিওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিডপ্রায় ৭২ ক্যালরিএ ছাড়া ডিমে রয়েছে ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি–১২ ও রিবোফ্লাবিন, যা শরীরে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। ডিমে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সেদ্ধ ডিম: কম ক্যালরিতে বেশি পুষ্টিঅনেকেই সকালে সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন, আর পুষ্টিবিদরাও এটিকে স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন। কারণ সেদ্ধ ডিম রান্না করতে বাড়তি তেল বা চর্বির প্রয়োজন হয় না। ফলে ডিমের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ বেশিরভাগটাই অক্ষুণ্ন থাকে এবং ক্যালরিও তুলনামূলক কম থাকে। সেদ্ধ ডিমে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সেদ্ধ ডিম খেলে শরীরে শক্তি বাড়ে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়ক হতে পারে।ভাজা ডিম: স্বাদে ভরপুর, পুষ্টিতেও কম নয়অন্যদিকে ভাজা ডিম মানেই একটু বেশি স্বাদ। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, টমেটো, ধনেপাতা কিংবা সামান্য মাখন যোগ করলে ডিম ভাজি হয়ে ওঠে আরও মুখরোচক। এসব উপকরণও শরীরের জন্য উপকারী, বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, সেদ্ধ ডিমের তুলনায় ভাজা ডিমে ফসফরাসের পরিমাণ সামান্য বেশি, যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে। প্রোটিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের দিক থেকে সেদ্ধ ও ভাজা ডিমের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।সমস্যা তৈরি হয় যখন ডিম ভাজা হয় অতিরিক্ত তেলে, বিশেষ করে সয়াবিন তেলে। এই তেলে ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই যদি ভাজা ডিম খেতেই হয়, তাহলে কম তেল ব্যবহার করা এবং সঙ্গে প্রচুর শাকসবজি বা পনির যোগ করাই ভালো।মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট অর্থাৎ ভিটামিন ও খনিজের দিক থেকে বিচার করলে সেদ্ধ ও ভাজা ডিম প্রায় সমান পুষ্টিগুণই দেয়। তবে স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য সেদ্ধ ডিম হতে পারে নিরাপদ ও কম ক্যালরির বিকল্প। আর মাঝেমধ্যে স্বাদের জন্য হালকা তেলে ভাজা ডিম খাওয়াতেও তেমন সমস্যা নেই।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া