• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৭:২০:৩৮ (07-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
ইফতারে দই-চিড়া খাওয়া কতটুকু উপকারী?

ইফতারে দই-চিড়া খাওয়া কতটুকু উপকারী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক: সারাদিন রোজা পালনের পর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীর অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় শরীরের হারানো শক্তি ফিরে পেতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারের টেবিলে দই-চিড়া একটি পরিচিত ও জনপ্রিয় খাবার। হালকা, ঠান্ডা এবং সহজপাচ্য হওয়ায় অনেকেই রোজা ভাঙেন এই খাবার দিয়ে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে ইফতারে দই-চিড়া খাওয়া কতটুকু উপকারী? কিংবা শুধু দই-চিড়া খেলে কি শরীর সারাদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়?পুষ্টিবিদদের মতে, চিড়া মূলত চাল থেকে তৈরি হওয়ায় এটি কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস। রোজার পর শরীরে গ্লুকোজের ঘাটতি দ্রুত পূরণে এটি সহায়ক। অন্যদিকে দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং উপকারী প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, যা হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ফলে দই ও চিড়ার সংমিশ্রণ শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে এবং পেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে না।তবে পুষ্টিগত দিক থেকে শুধু দই-চিড়া সম্পূর্ণ খাবার নয়। এতে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ঘাটতি থাকে। বিশেষ করে মিষ্টি দই ব্যবহার করলে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ঝুঁকিও থাকে। সারাদিন রোজার পর শরীরের প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ এবং তরলের। তাই কেবল এক বাটি দই-চিড়া খেলে দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যদি অন্য কোনো পুষ্টিকর উপাদান এতে যুক্ত না করা হয়।পুষ্টিবিদরা জানান, দই-চিড়াকে আরও পুষ্টিকর করতে এতে কলা, আপেল বা পেঁপের মতো ফল, বাদাম কিংবা চিয়া সিড যোগ করা যেতে পারে। এতে ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অতিরিক্ত ভিটামিন পাওয়া যায়। পাশাপাশি ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পানি বা লেবু-পানি পান করাও জরুরি, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা কমে।ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চিড়া উচ্চ গ্লাইসেমিক কার্বোহাইড্রেট হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই দইয়ের সঙ্গে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ উপাদান যোগ করলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মিষ্টি দইয়ের পরিবর্তে টক দই ব্যবহার করাই ভালো।সব মিলিয়ে বলা যায়, দই-চিড়া ইফতারের জন্য ভালো একটি শুরু হতে পারে। তবে এটিকে একমাত্র খাবার হিসেবে না রেখে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যসম্মত। পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখাই রোজার সময় সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।