• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৯শে চৈত্র ১৪৩২ দুপুর ০১:২৯:৩৩ (02-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
দীর্ঘ ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে নভোচারীরা

দীর্ঘ ৫৪ বছর পর আবারও চাঁদের পথে নভোচারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছাড়িয়ে গভীর মহাকাশে মানুষের যাত্রার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।১ এপ্রিল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে চারজন নভোচারীকে নিয়ে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস-২’ চন্দ্রাভিযান।কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৩২ তলা সমান উচ্চতার বিশাল রকেটটি মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে হাজারো মানুষ এই বিরল দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। এই মিশনকে চাঁদে স্থায়ীভাবে মানুষের উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।আর্টেমিস-২ মিশনে অংশ নিয়েছেন চার নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট পরই মিশনের কমান্ডার ওয়াইজম্যান জানান, তারা মহাকাশ থেকে চাঁদের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন এবং সরাসরি চাঁদের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন।উৎক্ষেপণের আগে হাইড্রোজেন লিকেজ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও সতর্কতার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ভরার পর কোনো বড় ত্রুটি ছাড়াই মিশনটি শুরু করতে সক্ষম হয় নাসা। লঞ্চ পরিচালক চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই মিশনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো দলের সাহস এবং নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন।মিশনের প্রথম ধাপে নভোচারীরা এক থেকে দুই দিন পৃথিবীর উচ্চ কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, প্রপালশন, নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করবেন। এসব পরীক্ষা সফল হলে ওরিয়ন মহাকাশযানটি শক্তিশালী ইঞ্জিন বার্নের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের পথে যাত্রা করবে।পুরো যাত্রায় ওরিয়ন ‘ফ্রি-রিটার্ন’ গতিপথ অনুসরণ করবে, যেখানে চাঁদ ও পৃথিবীর অভিকর্ষ বল ব্যবহার করে কম জ্বালানিতে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসা সম্ভব হবে। এ সময় মহাকাশচারীরা পৃথিবী থেকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে পৌঁছাবেন।চাঁদকে প্রদক্ষিণ শেষে পৃথিবীতে ফেরার সময় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্স বলেন, বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অ্যাপোলো যুগ দেখেনি। তাই আর্টেমিস কর্মসূচি বর্তমান প্রজন্মের জন্য নতুন এক মহাকাশ অভিযানের সূচনা করছে।উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নভোচারী পাঠিয়েছিল নাসা। এর ৫৪ বছর পর আবার চাঁদের অভিমুখে নভোচারীদের পাঠালো নাসা।মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি আশা করছে, এই মিশনের সাফল্য ভবিষ্যতে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষের পদচারণা নিশ্চিত করবে এবং মহাকাশ অভিযানে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।সূত্র: আল জাজিরা