• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:৪০:৩৫ (13-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা: এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

স্পোর্টস ডেস্ক: জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।১৩ জুন শনিবার সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন খুলশী থানার এসআই মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খুলশী থানা পুলিশের রাত্রিকালীন মোবাইল-৩৩ টিমের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাওয়ার পথে খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকায় হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ করেন নাঈম হাসান।এ ঘটনায় নাঈমের পরিবারের পক্ষ থেকে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে একজনকে আটক করা হয়েছে।সিএমপি ইতোমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।নাঈম হাসানের অভিযোগ, রাতে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার সময় কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়।গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে নাঈম বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি সিএনজিযোগে বাসায় ফিরছিলেন। পথে টোল প্লাজার কাছে ট্রাফিক পুলিশ তাদের থামান। পরে একজন ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্য ও একজন সিভিল পোশাকধারী ব্যক্তি গাড়ি তল্লাশি করতে আসেন।তার দাবি, এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে জোর করে সিএনজির ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং আসামি বলে সম্বোধন করে মারধর করেন।নাঈম আরও বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে তিনি নিজের পরিচয় দেন। শুরুতে কর্মকর্তাদের আচরণ কঠোর থাকলেও বিভিন্ন মহল থেকে ফোন আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়।তিনি সরাসরি এসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে বলেন, ‘তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার আপনার নেই। তারপরও তিনি মারধর করেছেন।’জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন ক্রিকেটারও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘটনাটিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।