• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১২ই বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ১০:৩৪:০২ (25-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
সাংবাদিকদের তালিকা হওয়া উচিত: কাদের গনি চৌধুরী

সাংবাদিকদের তালিকা হওয়া উচিত: কাদের গনি চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সংবাদমাধ্যম হলো গণতন্ত্রের চোখ। এ চোখ দিয়েই সরকার সমাজের গভীরে দেখতে পায়। সংবাদমাধ্যম না থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্র অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।২৫ এপ্রিল শনিবার দুপুরে সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সভার উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, দফতর সম্পাদক আবু বকর, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, মামুন ফরাজী প্রমুখ।কাদের গনি চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা জরুরি। সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে স্বৈরাচারের জন্ম হয় না, রাষ্ট্র পথ হারায় না।তিনি বলেন, মিডিয়া সরকারসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনা করে তাদের সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি করে। যে সমাজে মানুষ নিজের মনের কথা নিঃশঙ্ক চিত্তে বলতে পারে না, সে সমাজে বিবেকের দিশা হারিয়ে যায় এবং মানবিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়ে। তাই বাংলাদেশের সংবিধান সাংবাদিকতাকে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিয়েছে। সাংবাদিকরা ক্ষমতাকে নজরদারিতে রাখেন। তবে দুঃখজনকভাবে এখন এসব আদর্শ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের অনুসন্ধান। একজন সাংবাদিকের কাজ সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, সত্য উদ্ঘাটন করা এবং তা রক্ষা করা। এজন্য সাংবাদিকদের যেমন সাহসী হতে হয়, তেমনি সত্যনিষ্ঠ, নীতিতে আপসহীন এবং ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়। সততা, নির্ভুলতা ও পক্ষপাতহীনতা-এই তিনটি সাংবাদিকতার মূলভিত্তি। তাই সংবাদ হতে হবে শতভাগ নির্ভুল ও শুদ্ধ।তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রে তার গণমুখী চরিত্র হারিয়েছে। বিশেষ করে পতিত সরকারের সময়ে সাংবাদিকতার মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় অনেক সাংবাদিক দলীয় প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন এবং কিছু সম্পাদক অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন।বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, জনগণ দলদাস সাংবাদিকতাকে ঘৃণা করে। আত্মসমর্পণ কোনো সম্পাদককে মানায় না। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর সক্ষমতা না থাকলে সম্পাদকের চেয়ারে বসা উচিত নয়।কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, পতিত সরকারের সময়ে সাংবাদিকতার এমন অবনতি হয়েছিল যে, সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ জনবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হয়। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর অনেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন, কেউ কেউ গ্রেফতার হন। অনেকেই তাদের পদ-পদবি হারান।এসবকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম গণআস্থার জায়গা ধরে রাখতে পারেনি। সরকারকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে অনেকেই জনআকাঙ্ক্ষার কথা ভুলে গিয়েছিলেন, যা ছিল একটি নৈতিক পরাজয়।তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সাংবাদিক অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন, কেউ কেউ সংবাদমাধ্যমের মালিক হয়েছেন, সম্পদশালী হয়েছেন। কিন্তু তারা সমাজের প্রকৃত সমস্যাগুলো তুলে ধরার বদলে অপশক্তির পক্ষ নিয়েছেন। সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করলে পালিয়ে বেড়াতে হয় না; বরং দুর্দিনে জনগণই পাশে দাঁড়ায় বলেও মন্তব্য করেন কাদের গনি চৌধুরী।তিনি বলেন, অপসাংবাদিকতা, তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা পেশাটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে। ব্যাঙের ছাতার মতো পত্রিকা বের হচ্ছে। একই প্রেস থেকে শুধু নাম ও প্রিন্টার্স লাইন পরিবর্তন করে অসংখ্য পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। এগুলো প্রকৃত সাংবাদিকতা নয়।কাদের গনি চৌধুরী বলেন, তথাকথিত কিছু সম্পাদক এসব পত্রিকা নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে প্রভাব খাটান, যার ফলে প্রকৃত সাংবাদিকরা পিছিয়ে পড়ছেন। প্রকৃত সম্পাদক ও সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কে সাংবাদিক আর কে ‘সাংঘাতিক’, এটা নির্ধারণ না হওয়ায় সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তিনি বলেন, সাংবাদিক নামধারী কিছু ব্যক্তি ব্যবসায়ী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি করছেন। গণমাধ্যমের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হলে এসব তথ্য সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। সাংবাদিকদের ‘ওয়াচডগ’ বা সমাজের সতর্ক প্রহরী বলা হয়। কিন্তু আমরা যেন ‘পেটডগ’ বা ক্ষমতার অনুগত না হয়ে পড়ি, যোগ করেন কাদের গনি চৌধুরী।তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের ‘সোশ্যাল টিচার’ হিসেবে দেখতেন। আমরা যেন সেই মর্যাদা ধরে রেখে সমাজকে পথ দেখাতে পারি এবং আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি।বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, রাষ্ট্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংবাদমাধ্যম যেমন রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে, তেমনি গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের পথও নির্দেশ করে। এ কারণেই সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়।