গ্রিসে বাংলাদেশি ইমামকে দেশত্যাগের নির্দেশ, ৬০ মসজিদ বন্ধের ঘোষণা
অনলাইন ডেস্ক: অনিবন্ধিত ও অনুমোদনহীন উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে গ্রিস সরকার। এর অংশ হিসেবে ৬০টি মসজিদ চিহ্নিত করে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশিদের পরিচালিত ২০ থেকে ২৫টি মসজিদ থাকায় প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।দেশটির অভিবাসন ও আশ্রয়নবিষয়ক মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সংসদীয় কমিটির এক সভায় জানান, নতুন ‘ল ৫২২৪/২০২৫’-এর ২৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুমোদনহীন উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজধানী এথেন্সের অ্যাজিওস নিকোলাওস এলাকায় একটি বেজমেন্টে পরিচালিত মসজিদ সিলগালা করা হয়েছে।ওই মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি ইমামের রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে তাকে দেশত্যাগের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানটিকে অনুমোদনহীন উপাসনালয় হিসেবে চিহ্নিত করে সিলগালা করে। পরে আদালত অনুমতি ছাড়া নামাজ পরিচালনার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।গ্রিস সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এথেন্সের ভোটানিকস এলাকায় অবস্থিত সরকারি মসজিদটিই মুসলিমদের জন্য একমাত্র অনুমোদিত উপাসনাস্থল। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবি, মসজিদটি অভিবাসীদের প্রধান বসতি এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা কঠিন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা ভাড়া করা ফ্ল্যাট বা বেজমেন্টে অস্থায়ীভাবে নামাজের ব্যবস্থা করে আসছিলেন।বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রিস-এর সাধারণ সম্পাদক এইচ এম জাহিদ ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক হয়েছে। রমজান মাসে ইবাদত নির্বিঘ্ন রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি সমাধানে পৌঁছাতে তারা অন্যান্য মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন।সাধারণ প্রবাসীদের আশঙ্কা, রমজানে মসজিদগুলো বন্ধ থাকলে তারাবি ও ঈদের নামাজ আদায় ব্যাহত হতে পারে। তারা মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত রমজান মাসে সাময়িক শিথিলতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।