• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:৪৪:৪৬ (08-May-2026)
  • - ৩৩° সে:
হাবিপ্রবিতে গ্রীন কেমিস্ট্রি ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

হাবিপ্রবিতে গ্রীন কেমিস্ট্রি ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই দিনব্যাপী ‘৩য় আন্তর্জাতিক ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড কম্পিউটেশন কনফারেন্স (আইসিএমএসসি-২৬)’ শুরু হয়েছে।৫ এপ্রিল রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২–এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর কমপিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স (বিএসিএমএস) আয়োজিত এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘গ্রিন কেমিস্ট্রি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ইনোভেশন: ফ্রম মলিকুলার ডিজাইন টু ক্লিন টেকনোলজি’।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। অতিথি অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব দুসেলদর্ফের অধ্যাপক ড. ক্রিস্টোফ জানিয়াক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মমিনুল ইসলাম, সম্মেলনের আয়োজক কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন কো-কনভেনর ও হাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বলরাম রায়।বিশেষ অতিথিরা বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়াবে। শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি নতুন জ্ঞান অর্জন ও গবেষণায় আগ্রহ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে।অতিথি অব অনার অধ্যাপক ক্রিস্টোফ জানিয়াক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. মো. এনামউল্যা বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে গবেষণার পরিধি ও গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কম্পিউটেশন ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ সব কিছুর সাথে যুক্ত। বিশেষ করে কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বর্তমানে বৈজ্ঞানিক গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ, নতুন উপকরণ উদ্ভাবন এবং গবেষণার গতি ত্বরান্বিত করতে এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’তিনি বলেন, ‘এই শাখায় অবদানের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, যা এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।’অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সিয়াম সারোয়ার বলেন, International Conference on Material Science and Computation–2026 আমাদের HSTU এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এটি গবেষকদের জন্য তাদের কাজ উপস্থাপন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্‌ম তৈরি করেছে। দেশ-বিদেশের অধ্যাপক, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে এবং গবেষণার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে। পাশাপাশি প্রেজেন্টেশন ও কর্মশালার মাধ্যমে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই সম্মেলন আমাদের গবেষণা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের লক্ষ্য শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাতের পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্‌ম তৈরি করা। সম্মেলনে গ্রিন কেমিস্ট্রি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উপকরণ, পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও সার্কুলার ইকোনমিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০০ গবেষক, শিক্ষক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এতে কী-নোট লেকচার, প্লেনারি টক, টেকনিক্যাল সেশন, পোস্টার উপস্থাপনা ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।