• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২২শে ফাল্গুন ১৪৩২ রাত ০৩:১৩:০৫ (07-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরেছে ৪৪৭ প্রাণ, দুর্ঘটনা বেশি ঢাকা বিভাগে

৬ মার্চ ২০২৬ দুপুর ০২:৩০:০৭

ফেব্রুয়ারিতে সড়কে ঝরেছে ৪৪৭ প্রাণ, দুর্ঘটনা বেশি ঢাকা বিভাগে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনা মিলিয়ে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৭ জন।

৬ মার্চ শুক্রবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ করে সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

Ad
Ad

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন।

Ad

এ সময় মোট ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত ও ১৩৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। নিহতের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত এবং ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৮৫ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী ও ৫৫ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন সেনাসদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ২ জন আনসার সদস্য, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক এবং ৪ জন শিক্ষক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্ঘটনায় জড়িত ৬৮৭টি যানবাহনের মধ্যে ২৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ বাস এবং ১৪ দশমিক ২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক ছিল। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং কার, জিপ ও মাইক্রোবাসও দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪১ দশমিক ৭৪ শতাংশ ঘটনা গাড়িচাপা, ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ৬৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২৭ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন খাতে নীতিগত দুর্বলতা, অনভিজ্ঞ ব্যবস্থাপনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টোপথে যান চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচল সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়া মহাসড়কে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড ও আলোর ব্যবস্থা না থাকা এবং অবকাঠামোগত ত্রুটিও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ












Follow Us