• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ২৪শে বৈশাখ ১৪৩৩ সকাল ১১:০৫:১২ (07-May-2026)
  • - ৩৩° সে:

মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে আফগান কিশোরীর আবেগঘন বার্তা

৭ মে ২০২৬ সকাল ০৯:০৭:৫২

মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে আফগান কিশোরীর আবেগঘন বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাতারের একটি মার্কিন পরিচালিত শরণার্থীশিবিরে থাকা ১৪ বছর বয়সী আফগান কিশোরী জাহরা যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কাছে আবেগঘন বার্তা পাঠিয়েছেন। তার আবেদন—তাদের যেন একটি নিরাপদ জীবন, শিক্ষার সুযোগ এবং স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

জাহরা গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কাতারের দোহা শহরের বাইরে অবস্থিত ‘আস সাইলিয়াহ’ শরণার্থীশিবিরে পরিবারসহ বসবাস করছেন। তার বাবা আফগান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন এবং ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর তাদের পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।

Ad
Ad

বর্তমানে ওই শিবিরে প্রায় ১ হাজার ১০০ আফগান আশ্রয়প্রার্থী অবস্থান করছেন। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিশনের সহযোগী ছিলেন। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় শিবিরবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Ad

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের আফ্রিকার দেশ কঙ্গোসহ তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ খবরে শিবিরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দুই মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় জাহরা বলেন, ‘আমরা বড় কিছু চাই না। শুধু শান্তিপূর্ণ জীবন, ভালো শিক্ষা এবং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুযোগ চাই।’ তিনি আরও অনুরোধ জানান, তার এই বার্তা যেন ফার্স্ট লেডির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং তাদের দুর্দশা যেন বিশ্ব ভুলে না যায়।

ভিডিওতে জাহরা জানান, গত চার বছর ধরে তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তালেবান শাসনে আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকেই তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরে দীর্ঘদিন শরণার্থীশিবিরে অনিশ্চিত জীবনযাপন তার মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে ওষুধও সেবন করতে হচ্ছে।

শিবিরে অবস্থানরত অনেকেই মার্কিন সেনাবাহিনীর দোভাষী, সহায়ক কর্মী বা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে কিছু মার্কিন সেনাসদস্যের পরিবারও রয়েছে।

আফগান পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের প্রধান শন ভ্যানডাইভার বলেন, ‘এরা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকালীন মিত্র। তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো সমাধান নয়; বরং এটি দায় এড়িয়ে যাওয়ার একটি উপায়।’

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জাহরা জানিয়েছিলেন, ইরান-সংঘাতের প্রভাবেও শিবিরে ভয় ও উদ্বেগ বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শব্দ এবং ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, শিবিরে থাকা আফগানদের জন্য এখনো স্বেচ্ছা পুনর্বাসনের বিভিন্ন বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। যদিও আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবু তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের বিষয়টিকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ












Follow Us