হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যায় সাড়ে ১১ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গিয়ে সাড়ে ৩শ’ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে ত্রাণ ও কৃষি প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে।
জানা গেছে, এবার হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলের ৬৮ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে, অবশিষ্ট ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। উঁচু এলাকায় ২৫ শতাংশ ধান কর্তন করা হয়েছে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। মাঠে রাখা অনেক ধান শুকাতে না পারায় পচন ধরেছে। কাঁচা ধান বিক্রি করতে গিয়ে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।


সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২১ হাজার কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষকদের আগামী ৩ মাস সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় অভিযানও শুরু হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্যোতিবিকাশ ত্রিপুরা জানান, জেলায় ৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন ধান এবং প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সংগ্রহ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহেদুর রহমান জানান, গত ৪ মে সোমবার দুপুর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৭ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর পানি ১৭৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর পানি কমলেও হাওরাঞ্চলের জলাবদ্ধতা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
জেলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে জেলার বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available