অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন বিনিয়োগকারী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ইরানের খারগ দ্বীপে তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। দ্বীপটি দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
২২ এপ্রিল বুধবার এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।


২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রাখবে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই খারগ দ্বীপ-এর তেল সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে যাবে এবং ইরানের অপেক্ষাকৃত দুর্বল তেলক্ষেত্রগুলো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা দেওয়া মানে দেশটির প্রধান আয়ের উৎসে সরাসরি আঘাত হানা। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানের অর্থ সংগ্রহ, স্থানান্তর ও দেশে ফিরিয়ে আনার সক্ষমতা দুর্বল করতে কাজ চালিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি উৎপাদনের বড় অংশই খারগ দ্বীপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত প্রায় পাঁচ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপটি ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রফতানি কেন্দ্র।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অবরোধ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে এবং সংরক্ষণ সক্ষমতা শেষ হয়ে এলে ইরানকে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে হতে পারে। দেশটির মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তেল থেকে।
তবে তারা এটাও উল্লেখ করেন, ইরানের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোরভাবে এই অবরোধ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ বর্তমানে সমুদ্রে দেশটির প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পথে রয়েছে।
এ বিষয়ে জেপি মরগান চেজ-এর বৈশ্বিক পণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান নাতাশা ক্যানেভা বলেন, এই অবরোধ আলোচনায় চাপ তৈরির কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available