আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের কাতারে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েন করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে সেনাঘাঁটি রয়েছে। এই দেশগুলো হলো: ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং তুরস্ক। এ ঘাঁটিগুলোর মধ্যে কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালের জুনে সংঘাতের সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা এই ঘাঁটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েনের জন্য আল-উদেইদ ঘাঁটিকেই বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা রয়েছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এবং ২০২৪ সালের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত হয়। যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি।
গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে চলাচল করছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কাতারে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চার মোতায়েন কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available