• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ৫ই মাঘ ১৪৩২ রাত ১০:১৮:২০ (18-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:

৫০ ধরনের কৃষি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সকাল ১১:৪১:২৪

৫০ ধরনের কৃষি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের বাহাদুরশাদী গ্রামের বাসিন্দারা দুই ফসলি চাষাবাদ করে থাকেন। ওই গ্রামের শত শত একর জমিতে ধান চাষ হলেও এখন আর গরু-লাঙল দিয়ে চাষাবাদ হয় না। প্রায় শতভাগ কৃষক যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছেন।

Ad

ওই গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম (৬২) বলেন, তাদের গ্রামে কেউ গরু-লাঙল দিয়ে চাষাবাদ করছে না। সবাই ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করে। যাদের বেশি জমি তারা যন্ত্র কিনে নিয়েছেন। আর যাদের নাই তারা ভাড়া নিয়ে চাষ করছেন। খেতে পানি দেয়া, ধান কাটা ও মারাই সব কাজই হচ্ছে মেশিন দিয়ে।

Ad
Ad

গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ পুরো জলার চিত্রও একই রকম। কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাবুরিয়াচালা গ্রামের আতিকুর রহমান বলেন, চাষাবাদে পরিশ্রম কমাতে যন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। তাদের গ্রামের কেউ এখন আর গরু-লাঙল দিয়ে চাষাবাদ করছে না। এছাড়া কাজের লোক এখন পাওয়া মুশকিল।

এক সময় সকল কৃষিযন্ত্র বিদেশ থেকে আমাদানি করা হলেও এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে কৃষি কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্র। গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) এ যাবত ৫০টি কৃষি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু যন্ত্র সাফল্যের সঙ্গে সারা দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং জাতীয়ভাবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখছে। কোনো কোনো অঞ্চলে জমি চাষ থেকে শুরু করে রোপণ, সার প্রয়োগ, ফসল কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দি পর্যন্ত সব কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রপাতি।

গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে জমি চাষের ৯৮ ভাগই হচ্ছে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর দিয়ে। ফসল মাড়াইয়ে যন্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৯৫ ভাগ ও সেচ হচ্ছে ৯২ ভাগ। তবে যন্ত্রে বীজ বপন ও রোপণ হচ্ছে মাত্র ৫ ভাগ, আগাছা দমন হচ্ছে ৮ ভাগ ও ফসল কর্তন হচ্ছে মাত্র ৫ ভাগ। এছাড়া খেতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ, নিড়ানি দেওয়া, ফসল কাটা কাজেও কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগ তো অনেক আগে থেকেই যন্ত্রনির্ভর। দেশে কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার প্রথম শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮৮-৮৯ সালে তা আরও প্রসার লাভ করতে থাকে। তখন পর্যন্ত এসব যন্ত্রপাতি ছিল আমদানি করা। এরপর বারি ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) কৃষি প্রকৌশলীরা যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন শুরু করেন এবং সময় সময় সেগুলোর উন্নত সংস্করণ তৈরি করতে থাকেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নূরুল আমিন জানান, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের পূর্বশর্ত হলো কৃষি কাজের প্রতিটি স্তরে কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি কাজকে ত্বরান্বিত করা। দেশে কৃষি কাজে শ্রমিক সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধির ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তারা সনাতন পদ্ধতিতে কৃষি কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করে। বারি এ যাবত ৫০টি কৃষি যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। যন্ত্রগুলি হচ্ছে, বারি লাঙল, বারি পা চালিত ধান ও গম মাড়াই যন্ত্র, বারি পা চালিত চার সিলিন্ডার পাম্প, শস্য বপন যন্ত্র, জিনিং মেশিন, জমি নিরানি যন্ত্র, ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, সূর্যমুখী মাড়াই যন্ত্র, শক্তি চালিত শস্য মাড়াই যন্ত্র, আলু উত্তোলন যন্ত্র, সোলার কেবিনেট ড্রায়ার, বীজ বপন যন্ত্র, আলু গ্রেডিং যন্ত্র, শক্তি চালিত ভুট্রা মাড়াই যন্ত্র, শস্য ঝাড়াই যন্ত্র, আমপাড়া যন্ত্র, শস্য কর্তন যন্ত্র, বীজ বপন যন্ত্র (মডেল-২),  হাইস্পীড রোটারী টিলার, ফল শোধন যন্ত্র, বেড প্লান্টার, গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র, হাইব্রিড ড্রায়ার, কম্পোষ্ট সেপারেটর, কফি গ্রাইডার, আলু গ্রেডিং যন্ত্র (মডেল-২), হস্তচালিত বাদাম মাড়াই যন্ত্র, শক্তিচালিত বাদাম মাড়াই, সোলার পাম্প, কফি রোস্টার, হলুদ পলিসার, কাটুন, স্লাইসার, আলু উত্তোলন, জিরো টিল সিডার, আলু রোপন, এক্সিয়াল ফ্লো পাম্প, মোবাইল, ভুট্রা মাড়াই, গাডেন বুম স্প্রেয়ার, সবজি ধৌতকরণ, নারিকেল ছোবড়া ছাড়ানো ও তৈল নিস্কাশন যন্ত্র।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকরা প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি প্রস্তুত ও বাজারজাত করে থাকেন। স্থানীয় অনেক সেবা প্রদানকারী বারি উদ্ভাবিত বেশ কিছু কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করে ভাড়াভিত্তিক ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন। বারির ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ কর্তৃক ‘কৃষি যন্ত্রপাতি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকিতে বারি উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।

বারির ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্টহারভেস্ট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক জরিপে দেখা গেছে, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণে শুধু গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র ও মাড়াই যন্ত্র ব্যবহারের ফলে ইউরিয়া সাশ্রয় ও ফসলের অপচয় রোধ করে। প্রচলিত পদ্ধতিতে কাটা ও মাড়াইতে প্রায় ১৫ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা ৫ শতাংশের কম হয়। বোরো মৌসুমে প্রচলিত পদ্ধতিতে এক একর জমির ফসল কাটতে কৃষকের অনেক বেশি ব্যয় হয়। কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে কাটা-মাড়াই করতে ব্যয় অনেক কমে যায়। এ ছাড়া যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ফসলের অপচয় কম হওয়ায় কৃষক ফসল বেশি পান। কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে দেশের কৃষক পর্যায়ে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি তৈরির এক সৃজনশীল প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিকেএম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আধুনিক কৃষিকাজের জন্য যান্ত্রিকীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যয় সীমিত রাখা যাবে। শিক্ষিত তরুণেরাও কৃষিকাজের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। সামগ্রিকভাবে কৃষিতে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা ইতিমধ্যে পড়তে শুরুও করেছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ






শবে বরাত কবে জানা যাবে যেদিন
শবে বরাত কবে জানা যাবে যেদিন
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৪৬:৩৬


দুদকের নজরে বেরোবির নিয়োগ প্রক্রিয়া, চলছে তদন্ত
দুদকের নজরে বেরোবির নিয়োগ প্রক্রিয়া, চলছে তদন্ত
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:২০:৫৯

মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ৬
মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ৬
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:১৭:১৫

সদরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত-১০
সদরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত-১০
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:১৪:৫৮


Follow Us