ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর পর মায়ের মরদেহ হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ১২ জুন শুক্রবার দিবাগত রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে রংপুর নগরীর নিউ জুম্মাপাড়া এলাকার নুরজাহান বেগমকে (৫৫) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অক্সিজেন না পাওয়ায় নুরজাহানের মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রোগীর মৃত্যুর পর দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা। এর প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযুক্ত হিসেবে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেনকে হাসপাতালে এসে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। পরে বিকেলে তিনি হাসপাতালে এলে একটি কক্ষে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এর পরই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
মৃতের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু অভিযোগ করেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় মরদেহ আটকে রাখা হয়েছিল। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও মরদেহ নামিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
রংপুর ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিরাজ বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উপস্থিত হয়ে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। পরে তিনি এসে ক্ষমা চেয়ে মরদেহ নিয়ে যান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি মরদেহ হস্তান্তরের আগে কাউকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনাও নিন্দনীয়।
সূত্র: চ্যানেল২৪ অনলাইন
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available