গাজীপুরের (শ্রীপুর) প্রতিনিধি: বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শৈলাট নতুন বাজার এলাকায় আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী কাছিটান (টাগ অব ওয়ার) খেলা।
১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেন বিভিন্ন এলাকার আটটি শক্তিশালী দল। খেলা ঘিরে দুপুরে পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।


স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চেয়ারম্যান (টি.সি.সি) বিআরডিবি ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এস এম মো. মাহফুল হাসান হান্নান। তিনি বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মকে এসব খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য মো. এনামুল হক মনি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২ নং গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী ও নয়াপাড়া কেন্দ্র কমিটির সাবেক সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম মাতাব্বর।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শৈলাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র কমিটির সাবেক সদস্য সচিব মো. নুরুল ইসলাম নুরী।
তিনি বলেন, বৈশাখ মানেই নতুন উদ্যম, নতুন প্রত্যাশা। গ্রামীণ এই খেলাধুলা আমাদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। সম্পূর্ণ খেলাটি পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীর আলম মাস্টার। বরেণ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ‘মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মাহাবুব আলম তালুকদার। বিশেষ আলোচক ছিলেন গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হান্নান আকন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. সোহেল রানা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম মন্ডল।
খেলায় চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নেয় মোট আটটি দল। গ্রুপভিত্তিক খেলায় শৈলাট একাদশ (রাজমিস্ত্রি দল) ও বাঁশবাড়ি একাদশ মুখোমুখি হয়। ধনুয়া একাদশ ও ভাই ভাই একাদশ। বদনীভাঙ্গা একাদশ ও গোতার বাজার একাদশের মধ্যকার লড়াই ছিল সমানতালে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। অন্যদিকে শৈলাট দক্ষিণপাড়া একাদশ ও চকপাড়া একাদশ। দিনভর খেলা উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ভিড় করেন। শিশু-কিশোর, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, খেলোয়াড়দের প্রাণপণ চেষ্টা এবং দলীয় সমর্থকদের স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিবছর বৈশাখ উপলক্ষে এ ধরনের আয়োজন করা হলে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে থাকবে এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এমন খেলাধুলা নতুন করে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।
দিন শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্তি ঘটে দিনব্যাপী এই আয়োজনের।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available