লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের তিস্তা বেষ্টিত ৬৪টি চরাঞ্চলে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশাচ্ছন্ন মাঠে নেমে পড়ছেন তারা। বিস্তীর্ণ চর জুড়ে বোরো চাষের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।

কৃষকরা জানান, প্রতিবছর আগাম বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাদের। তার ওপর এবার ডিজেল, সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় চাষাবাদ ব্যয় বেড়েছে। এতে বোরো উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


চাষিদের অভিযোগ, সার কিনতে গেলে ডিলাররা সংকটের কথা বললেও বাড়তি দাম দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত মূল্য তালিকা মানা হচ্ছে না, রসিদে অতিরিক্ত দামের উল্লেখও নেই। প্রতিবাদ করলে সার বিক্রি না করার অভিযোগও রয়েছে। এতে ডিলার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
অন্যদিকে সার ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, গুদাম থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি সহ বিভিন্ন সারের দাম বেড়েছে। ইউরিয়া প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।
সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের কৃষক হাসান আলী বলেন, সময়মতো নন-ইউরিয়া ও ইউরিয়া না পেলে জমির প্রস্তুতি ও ফলন ব্যাহত হবে। মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদারের দাবি জানান তিনি।
আদিতমারী উপজেলার হাজীগঞ্জ এলাকার কৃষক আব্বাস জানান, চারা ও সারের দামে চাষ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন জানান, ‘কৃষকদের সহায়তায় মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বোরো উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available