নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় এখন গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ-সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ মাঠ। ইরি-বোরো ধানের চাষে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের মাঠজুড়ে তৈরি হয়েছে নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ আর ধানের শীষের। যতদূর চোখ যায়, শুধুই সবুজের বিস্তার-যেন কৃষকের স্বপ্নের রঙিন ক্যানভাস।
সকালের শিশিরভেজা ধানের পাতায় ফুটে ওঠে সতেজতার অনন্য সৌন্দর্য। কৃষকের কঠোর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই সোনালি ফসলের সবুজ আভা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা এখন আশাবাদী ও স্বপ্নে বিভোর।


সম্প্রতি হঠাৎ বৃষ্টিতে ধানের পাতা ধুয়ে গিয়ে আরও সতেজ হয়ে উঠেছে। এতে মাঠজুড়ে সবুজের দীপ্তি আরও বেড়েছে। রোগবালাই তেমন দেখা না গেলেও কৃষকরা নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন এবং স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত রায় এর পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে ফলন আরও ভালো হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন জানান, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো চারা রোপণ, নিয়মিত সেচ, সার সংকট না থাকা এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ভালো ফলন আশা করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে সবুজের অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত ধানের সবুজে ভরে গেছে পুরো এলাকা। কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে আলোক ফাঁদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পোকা দমনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের কৃষক মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমি ইরি-বোরো ধান চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত জমির অবস্থা ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।”
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুব্রত রায় জানান, এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ হয়েছে। কৃষকদের সময়মতো চারা সরবরাহ এবং সঠিক দিকনির্দেশনার ফলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available