• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩ বিকাল ০৩:৫৭:৫০ (02-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:

একই ঘরে বন্দি ১৬ শিশু, সাড়ে চার বছর পর উদ্ধার

২ জুলাই ২০২৬ সকাল ০৯:১২:১৪

একই ঘরে বন্দি ১৬ শিশু, সাড়ে চার বছর পর উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি প্রত্যন্ত এলাকার জরাজীর্ণ বাড়ি থেকে একই পরিবারের ১৬ শিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের দাবি, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি মাত্র ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স দেড় বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, শিশুরা মানুষের মলমূত্রে ভরা নোংরা পরিবেশে বসবাস করছিল। কয়েকজন শিশুর ভাষা বিকাশও স্বাভাবিক হয়নি। ১৮ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী নিজের নামের বানান পর্যন্ত বলতে পারছিল না বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

ভিন্টন কাউন্টির শেরিফ রায়ান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাড়ির ভেতরে মানুষের বর্জ্য ও উচ্চমাত্রার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তার ভাষায়, ‘আমাদের অধিকাংশ গবাদি পশুকেও এর চেয়ে ভালো পরিবেশে রাখা হয়।’ তিনি ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত জঘন্য ও মর্মান্তিক’ বলে বর্ণনা করেন।

ভিন্টন কাউন্টির প্রসিকিউটর উইলিয়াম আর্চার জানান, শিশুদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদি—এই চারজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১৬টি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো শিশুদের জীবন বিপন্ন করা এবং গুরুতর শারীরিক ক্ষতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি মানবপাচারের ঘটনা নয়; বরং পারিবারিক নির্যাতনের একটি ঘটনা।

ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন জানান, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি তদন্তের অংশ হিসেবে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাক্রমে শিশুদের খুঁজে পায়। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতামই না যে ওই বাড়িতে ১৬টি শিশু রয়েছে।’ ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে তিনি তার কর্মজীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুরা প্রায় ১২ ফুট বাই ১২ ফুট আকারের একটি ঘরেই অধিকাংশ সময় কাটাত। কীভাবে তাদের আটকে রাখা হতো, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে ঘরের ভেতরে কোনো খাঁচা পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন শেরিফ।

উদ্ধারের পর সাত শিশুকে কলম্বাসের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে হেলিকপ্টারে করে লেভেল-ওয়ান ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। ৩০ জুন মঙ্গলবার এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের (ইনটিউবেশন) মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

১ জুলাই বুধবার গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, ক্রিস্টিনা সাইডার্স ও এলিজাবেথ সাইডার্স আদালতে হাজির হন। আদালতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বিচারক প্রত্যেকের জামিন ৩ লাখ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছেন।

তদন্তকারীরা জানান, পরিবারটি প্রায় দুই দশক ধরে দক্ষিণ ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও তারা চিকিৎসাসেবা, সরকারি নথিভুক্তি এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি—সবকিছুই এড়িয়ে চলেছিল। ফলে পরিবারের বাইরের মানুষের কাছে শিশুদের অস্তিত্ব প্রায় অজানাই ছিল।

এদিকে, ঘটনার পর প্রতিবেশীরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। প্রায় ছয় বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী জোসেফ স্টুয়ার্ট বলেন, তিনি কখনো ওই বাড়িতে কোনো শিশুকে দেখেননি। ঘটনাটিকে তিনি ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

প্রসিকিউটর উইলিয়াম আর্চার জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুদের অস্থায়ী হেফাজত নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার আদালতের অনুমতি চাইছে। অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন বলেন, এই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ



এলপি গ্যাসের দাম কমলো
এলপি গ্যাসের দাম কমলো
২ জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৩:৩১:৩২








Follow Us