• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২৫শে ফাল্গুন ১৪৩২ রাত ১১:২৩:৩৮ (09-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

৯ মার্চ ২০২৬ সকাল ১০:২৯:২৫

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবের এই যৌথ অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।

গত জানুয়ারি মাসে অভিযানে গিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর। এরপর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তখন আর অভিযান চালানো হয়নি।

Ad
Ad

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

Ad

আজ সকালে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বাহিরের পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ কারণে তারা অভিযানে কৌশল অবলম্বন করছে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র‍্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ২০০ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, র‍্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাঁদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় আটক এক আসামিকে। চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান।

সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও নগরের কাছেই এই এলাকা। এলাকাটির পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা, দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আস্তানা’। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি।

এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।

র‍্যাবের ওপর হামলার আগে জঙ্গল সলিমপুরে গত বছরের অক্টোবরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ



দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস
দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টির আভাস
৯ মার্চ ২০২৬ রাত ০৮:১১:৪৩









Follow Us